Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে একসময় সকালবেলা ভিড় জমত পড়ুয়াদের। এখন সেই ভবনের দরজায় ঝুলছে তালা। ছাত্রছাত্রীরা দূরের স্কুলে যাচ্ছে বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর ভরসা করছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত দশকে দেশে ৮৯ হাজার ৪৪১টি সরকারি স্কুল (government school) বন্ধ হয়েছে।
দশ বছরে বড় পতন
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের পরিসংখ্যান লোকসভায় পেশ করেন প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী। ২০১৪-১৫ সালে সরকারি স্কুল (Government School) ছিল ১১,০৭,১০১টি, ২০২৩-২৪ সালে কমে ১০,১৭,৬৬০টি—৮ শতাংশ হ্রাস। সবচেয়ে বেশি বন্ধ হয়েছে মধ্যপ্রদেশে (২৯,৪১০টি) ও উত্তরপ্রদেশে (২৫,১২৬টি), মোটের ৬১ শতাংশ। জম্মু কাশ্মীরে ২১.৪ শতাংশ, ওড়িশায় ১৭.১ শতাংশ হ্রাস। বিহারে ৫ শতাংশ বেড়েছে, এখন ৭৮,১২০টি।
বেসরকারি স্কুলের রমরমা
বেসরকারি স্কুল ২০১৪-১৫ সালের ২,৮৮,১৬৪ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৩,৩১,১০৮টি—১৫ শতাংশ বৃদ্ধি। উত্তরপ্রদেশে ১৯,৩০৫টি বেড়েছে (জাতীয় বৃদ্ধির ৪৫ শতাংশ), বিহারে সবচেয়ে বেশি, ওড়িশায় ৮০.৩৬ শতাংশ। মন্ত্রী বলেন, স্কুল খোলা-বন্ধ রাজ্যের অধিকার, কিন্তু RTE আইন অনুসারে শিশুদের ভর্তির অধিকার রক্ষা করতে হবে।
নীতি আয়োগের সতর্কবার্তা
নিটি আয়োগের ২০২৩ রিপোর্টে শিক্ষক নিয়োগ-প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়। মিডডে মিল স্কুল ২০২০-২১ সালের ১১.১৯ লক্ষ থেকে ২০২৪-২৫ সালে ১০.৩৫ লক্ষ—৮৪,৪৫৩টি কমেছে। দেশে ৬৯ শতাংশ স্কুল সরকারি, ছাত্রভর্তির ৫৫.৯ শতাংশ সেখানে (গ্রামে ৬৬ শতাংশ)।
কেন বন্ধ হচ্ছে স্কুল?
ছাত্রসংখ্যা কমা, শিক্ষক সংকট ও পরিকাঠামোর অভাবে বন্ধ হচ্ছে সরকারি স্কুল (Government School)। অভিভাবকরা ইংরেজি মাধ্যম, ডিজিটাল সুবিধা, কম ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের জন্য প্রাইভেট স্কুল পছন্দ করছেন।
অথচ সরকারি স্কুলের এই দ্রুত সংখ্যার হ্রাস এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধি ভবিষ্যতে শিক্ষার সমতা ও প্রবেশাধিকারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


