Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য সামনে আসতে পারে বড়সড় সুখবরের ইঙ্গিত। অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission Update) এর আওতায় বেসিক পে (Basic Pay) থেকে শুরু করে ভাতা ও এরিয়ার পুরো বেতন কাঠামোতেই আসতে পারে বড় পরিবর্তন।ইতিমধ্যেই এই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতামত চেয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। খোলা হয়েছে একটি বিশেষ পোর্টাল, যেখানে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মী, পেনশনভোগী এবং স্টাফ ইউনিয়ন নিজেদের প্রস্তাব ও দাবি জানাতে পারবেন।তবে সরকারি সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আপাতত পুরো বিষয়টি রয়েছে পরামর্শের স্তরে যার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের বেতন কাঠামোর রূপরেখা তৈরি হতে পারে।
অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission Update ) এখনও বাস্তবায়িত না হলেও, তার আগেই মূল বেতন ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন বেতন কাঠামোয় বেসিক পে বেড়ে প্রায় ৪৬,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এই সম্ভাবনার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। যদি এই ফ্যাক্টর বাড়ানো হয়, তাহলে বর্তমান বেতনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে বেসিক পে এই স্তরে পৌঁছতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।তবে সরকারি মহল এখনও এই বিষয়ে সতর্ক। স্পষ্ট জানানো হয়েছে স্যালারি রিভিশন হোক বা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, কোনও কিছু নিয়েই এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন সুপারিশ পেশ করার পরই সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।অর্থাৎ, ৪৬ হাজার টাকার বেসিক পে এখনই নিশ্চিত নয়, কিন্তু সম্ভাবনার আলোচনায় তা ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে।
এই বাড়তি বেতনের আশার পিছনে রয়েছে মূলত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়েই জল্পনা। বিভিন্ন রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলছে, এবার এই ফ্যাক্টর ২.৫৭-এর আশেপাশে থাকতে পারে। আর সেটাই হলে বর্তমান বেতনের ওপর প্রায় ৩০-৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি সম্ভব যার জেরে ন্যূনতম বেসিক পে ৪৬,০০০ টাকায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যদি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর তুলনামূলক কম, অর্থাৎ ২.০ ধরা হয়, তাহলেও কম নয় লাভ। সেক্ষেত্রে লেভেল ওয়ান কর্মীদের ন্যূনতম বেসিক পে বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৬,০০০ টাকা।স্বাভাবিকভাবেই, এর প্রভাব শুধু নিম্নস্তরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না উচ্চ পদে থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রেও বেতনের অঙ্ক আরও বড় লাফ দিতে পারে। তবে সবটাই এখনো সম্ভাবনার হিসাব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে কমিশনের সুপারিশের ওপর।ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর শুনতে জটিল লাগলেও, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়ার পিছনে এটাই আসল ‘গেমচেঞ্জার’।
সহজভাবে বললে, পুরনো বেসিক পে-র সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট গুণক প্রয়োগ করেই ঠিক হয় নতুন বেসিক পে কত হবে। অর্থাৎ, এই একটি সংখ্যাই ঠিক করে দেয় বেতন কতটা বাড়বে।তবে এই সংখ্যা হঠাৎ করে নির্ধারিত হয় না। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং কর্মীদের জীবনযাত্রার খরচ সব কিছু বিচার করেই ঠিক করা হয় ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের মান। তাই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর যত বেশি, বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তত বড় এই কারণেই অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে এই সংখ্যাটিকেই ঘিরে সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে।
২০১৬ সালে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার পর ন্যূনতম বেসিক স্যালারি নির্ধারিত হয়েছিল ১৮,০০০ টাকা, আর সর্বোচ্চ বেসিক স্যালারি পৌঁছেছিল ২,৫০,০০০ টাকায়। অর্থাৎ নিচু স্তর থেকে উচ্চস্তরের বেতনের মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ১:১৩.৯।
এই পরিসংখ্যানই এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, অষ্টম বেতন কমিশনেও একইভাবে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বেতনের ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে সেদিকেই নজর থাকছে কর্মী মহল থেকে বিশেষজ্ঞদের।
সরকার ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে নোটিফিকেশন জারি করেছে। কমিশনকে ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপরই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।সব মিলিয়ে, প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগীর চোখ এখন এই কমিশনের দিকে কারণ, এই সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে তাঁদের আর্থিক।


