স্নেহা পাল, চণ্ডীগড়: সাইবার প্রতারকদের (Cyber Fraud) ‘সফট টার্গেট’ মূলত প্রবীণরা। ‘হাউস অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধার অ্যাকাউন্ট থেকে ২.৯৮ কোটি টাকা হাপিস করলো প্রতারকরা! ঘটনায় শনিবার হরিয়ানার পঞ্চকুলা সাইবার পুলিশ (Panchkula Cyber police) গ্রেপ্তার করল তিন অভিযুক্তকে।
ব্যাঙ্ক লেনদেনের সূত্র ধরেই প্রতারণা চক্রের নাগাল
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিন অভিযুক্তের নাম নিতিন সিঙ্ঘাল, অজয় ও রাম। নিতিন পূর্ব দিল্লির বাসিন্দা হলেও বাকি দুজন উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) মথুরা জেলার বাসিন্দা এবং মোহালিতে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। এর মধ্যে নিতিনের একার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতারিত অর্থের প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। ২৪ জানুয়ারি তাঁদের গ্রেপ্তার করে স্থানীয় আদালতে পেশ করা হয়। আদালত পুলিশকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
প্রধানমন্ত্রীর জনধন যোজনার (Pradhan Mantri Jan Dhan Yojana) সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চণ্ডীগড়ের (Chandigarh) এক মহিলার কাছ থেকে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেন অভিযুক্তরা। পরে প্রতারিত টাকার থেকে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা ওই মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। সেই লেনদেনের সূত্র ধরেই পুলিশ অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছয়।
নকল আদালতে বিভ্রান্তি, আতঙ্কিত বৃদ্ধা
অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ ডিসেম্বর বৃদ্ধা মহিলার কাছে একটি ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে টেলিকম সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে পরিষেবা বন্ধ করার হুমকি দেয়। পরে কলটি ভুয়ো সিনিয়র আধিকারিক ও CBI অফিসার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের কাছে ট্রান্সফার করা হয়।
তাঁরা ওই মহিলাকে টাকা পাচারের মামলায় জড়িত বলে ভয় দেখান। ‘হাউস অ্যারেস্টে‘র কথা বলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভিডিও কলে একটি নকল আদালত দেখানো হয়। সন্তানদের ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাদের কথানুযায়ী ৫ ই ডিসেম্বর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২.৯৮ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন ওই মহিলা। কিন্তু পরবর্তীতে আরও টাকা চাওয়া হলে তাঁর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি ১৯৩০ cyber Helpline এ অভিযোগ জানান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতারিত অর্থ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে যাতে অর্থ উদ্ধার ও চক্র শনাক্ত করতে অসুবিধা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের পুরো নেটওয়ার্ক ও অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিক।


