Aaj India Desk, কলকাতা : চুপিসারে কি বড়সড় বদলের পথে এলপিজি (LPG) সূত্রের দাবি, দেশের গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলো নাকি এবার বাড়ির এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের গ্যাসের পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ, যেটা এতদিন ১৪.২ কেজি হিসেবে মিলত, তা কমে নাকি দাঁড়াতে পারে মাত্র ১০ কেজিতে!
প্রশ্ন উঠছে এটা কি সত্যিই খরচ কমানোর বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ, নাকি সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ ফেলার নতুন কৌশল? কারণ ওজন কমলেও দাম কি কমবে, নাকি একই দামে কম গ্যাসেই চলতে হবে?
সরকারি ভাবে এখনও কিছু ঘোষণা হয়নি, কিন্তু এই সম্ভাবনার খবরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা। এটা কি প্রয়োজনীয় সংস্কার, নাকি নীরবে ‘কমে বেশি দাম’-এর ফাঁদ? উত্তর এখনো অজানা কিন্তু প্রশ্ন বাড়ছেই।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ যত ঘনাচ্ছে, ততই চাপ বাড়ছে ভারতের মতো তেল-গ্যাস নির্ভর দেশগুলোর ওপর। কারণ, দেশের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বিপুল পরিমাণ এলপিজির উপর নির্ভরশীল ভারত।পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৩ হাজার ৫০০ টন এলপিজি (LPG) লাগে দেশে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার ৪০০ টন সরাসরি পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে। কিন্তু উদ্বেগের জায়গাটা অন্যত্র এই বিপুল চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই আসে আমদানির উপর নির্ভর করে।আর সেই আমদানির বড় অংশ, প্রায় ৯০ শতাংশই এতদিন এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। অর্থাৎ, সরবরাহের মূল ভরসা ছিল সেই অঞ্চলই। এই গ্যাস নির্ভর করত একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের উপর হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে পৌঁছত ভারতে। এখন প্রশ্ন উঠছে, যদি সেই রুটেই অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে কি বিপদের মুখে পড়বে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ? পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগও।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আর ইরানের হরমুজ প্রণালী আটকে দেওয়ার জেরে ভারতের এলপিজি (LPG) সরবরাহে ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আমদানির উপর নির্ভরশীল এই ব্যবস্থায় সেই প্রভাব পড়াও স্বাভাবিক। তবে সেই পরিস্থিতিতে সরকার একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে বাড়ির রান্নার গ্যাসে কোনও কাটছাঁট হবে না। অর্থাৎ, ঘরে ঘরে যে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার পৌঁছায়, তার সরবরাহে আপাতত পরিবর্তন আনা হবে না বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু চাপ সামলাতে অন্য পথে হাঁটা হয়। বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেই আরোপ করা হয় একাধিক বিধিনিষেধ, যাতে ঘরোয়া চাহিদা কোনও ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই ভারসাম্য কতদিন বজায় রাখা সম্ভব? পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয়, তাহলে কি ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত বদলাতেও বাধ্য হতে হবে?
গত সপ্তাহেই পরিস্থিতির একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। দুটি জাহাজে করে মোট প্রায় ৯২ হাজার ৭০০ টন এলপিজি (LPG) এসে পৌঁছায় ভারতে যা কার্যত দেশের এক দিনের চাহিদার সমান। শুনতে স্বস্তির মনে হলেও, বাস্তবটা কিন্তু উল্টো দিকেই ইঙ্গিত করছে। কারণ, যেখানে প্রতিদিন এতটাই গ্যাসের প্রয়োজন, সেখানে মাত্র একদিনের সমান সরবরাহ পৌঁছনো মানেই ঘাটতির সম্ভাবনা বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতেই দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক গ্যাস সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, সরবরাহের এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা দেশের গ্যাসের মজুত দ্রুত কমছে। যে হারে ব্যবহার হচ্ছে, সেই তুলনায় সরবরাহ না থাকলে, এই মজুত আর কতদিন টিকবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


