Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : রাজপুর-সোনারপুর (Sonarpur) পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে হঠাৎ ভেঙে পড়া একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। প্রথমে এটিকে শুধুই একটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে একাধিক অভিযোগ। ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। পাশাপাশি ঘটনায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দোষারোপও শুরু হয়েছে।
জলাভূমিতে অবৈধ নির্মাণ
রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সোনারপুর (Sonarpur) উত্তর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী মোনালিসা সিনহা। তিনি অভিযোগ করেন, জলাভূমিতে নিয়ম ভেঙে নির্মাণের ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের মদতেই এ ধরনের কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে মোনালিসা সিনহা বলেন, “যেভাবে জলাভূমির উপর এই বাড়ি তৈরি হচ্ছিল, সেখানে মানুষ বসবাস করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।” এই ঘটনায় নির্মাণের গুণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই ইস্যুতে সরব হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ধরও। তাঁর বক্তব্য, “নজিরাবাদ ঘটনার পরও এলাকায় একের পর এক অবৈধ নির্মাণে সমর্থন দিচ্ছে তৃণমূল।”
তৃণমূল প্রার্থীর পাল্টা জবাব
পুরসভার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ওই এলাকায় প্রায় ৪০টি পরিবারকে সরকারি আবাসন দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, তাঁদের মধ্যেই কিছু পরিবার খালের উপর কংক্রিটের পিলার তুলে এই নির্মাণ কাজ করছিল। এই বিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম জানান, “কীভাবে এবং কারা এই নির্মাণ করছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুরসভা।”
নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রীয় ইস্যু
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনারপুর (Sonarpur) ও আশপাশের এলাকায় জলাভূমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে। যা এতদিন স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন সরাসরি নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিয়ম ভেঙে জলাভূমির উপর নির্মাণ চললেও প্রশাসন কার্যত নিষ্ক্রিয় থেকেছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্থানীয় স্তরে যোগসাজশের কারণেই এই ধরনের বেআইনি কাজ রোখা যায়নি। এই ধসের ঘটনাকে তাঁরা সেই গাফিলতির ফল হিসেবেই তুলে ধরছেন এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।অন্যদিকে শাসক দল এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরসভা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং কীভাবে এই নির্মাণ কাজ চলছিল, তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
ফলে, একটি স্থানীয় দুর্ঘটনা এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। ভোটের আগে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।


