Aaj India Desk, কলকাতা : বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, ভারতে নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় ১৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম আয় করেন। একই ধরনের কাজ করেও নারীরা কম বেতন পান। বড় পদে গেলে এই পার্থক্য আরও বেড়ে যায়। কর্মক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা এখনও কম। পাশাপাশি দেশে যেখানে প্রায় ৭৭ শতাংশ পুরুষ কাজের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কম। অনেক নারী পড়াশোনা করেও চাকরি করতে পারেন না। এই বাস্তবতার মাঝেই পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ (International Women’s Day)।
নারী দিবসের থিমে অধিকারের বার্তা
এ বছরের মূল থিম “Give to Gain” অর্থাৎ নারীদের সময়, শিক্ষা, সম্পদ ও সুযোগ দিলে তার সুফল শুধু নারীদের নয়, গোটা সমাজকেই এগিয়ে নিয়ে যায়। পাশাপশি এর থিমে রয়েছে ‘Rights. Justice. Action. For ALL Women and Girls’।
কিন্তু ভারতের বাস্তবের ছবিটা এখনও অসমতার রঙে আঁকা। এই বৈষম্যের বড় কারণ ‘অদৃশ্য শ্রম’। ভারতের নারীরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন গৃহস্থালির কাজে, রান্না, সন্তান লালন-পালন, পরিবারের যত্ন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সময় তিন ঘণ্টারও কম। অর্থাৎ অর্থনৈতিক উৎপাদনের বাইরে থাকা এই বিশাল শ্রম নারীদের কর্মজীবনের সুযোগকে সংকুচিত করে। নিরাপত্তা ও জনপরিসরেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। শহর থেকে গ্রাম, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, রাতের শহরে নিরাপত্তাহীনতা বা গণপরিবহনে ভয় এখনও অনেক নারীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ। ফলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেন না অনেকেই। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৩ অনুযায়ী, লিঙ্গ সমতার সূচকে ভারতের অবস্থান ১৪৬টি দেশের মধ্যে ১২৭তম। নারীর সমতা এখনো অনেক দূরের পথ। ‘Rights of women’ বা নারী অধিকার নিয়ে সমাজ মাধ্যমে একাধিক লেখালেখি থাকলেও বাস্তব জীবনে তার প্রভাব প্রায় শূন্য।
বাড়ছে নারীদের উপস্থিতি
তবু আশার আলোও আছে। এখন সংখ্যায় কম হলেও অনেক নারী বিজ্ঞান, ব্যবসা, ক্রীড়া, রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে আসছেন। গ্রামে গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে বহু নারী ছোট ব্যবসা শুরু করেছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অনলাইন কাজের সুযোগও অনেক নারীর জীবনে নতুন রাস্তা খুলছে। পরিবর্তন আসছে ভারতের সমাজে। আগামী দশকে প্রকৃত পরিবর্তন তখনই সম্ভব, যখন নারীদের ক্ষমতায়ন কেবল নীতিতে নয়, বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হবে। সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ এবং মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে তবেই সমাজ সত্যিকারের অগ্রগতির পথে হাঁটবে। সব মিলিয়ে এইবছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের (International Women’s Day) থিম প্রতিফলিত হয়েছে নারীদের সমতার অধিকারের প্রয়োজনীয়তা।


