Aaj India Desk, কলকাতা: নিউ টাউনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রকাশিত বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারকে ঘিরে তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া সামনে এল। শাহকে কটাক্ষ করে তৃণমূল ভবন থেকে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee) ‘সোনার বাংলা’ স্লোগান ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপির অবস্থানকে ঘিরে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee)। কেন্দ্রের ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, যদি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এতটাই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়, তবে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অবস্থান কী তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
হাসিনা ইস্যুতে কার দিকে আঙুল ?
অভিষেক বলেন, “শেখ হাসিনা দেড় বছর ধরে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁর অবস্থান কী? তিনি অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী?” এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রের নীতির মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন। তাঁর দাবি, একদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে সরকার নীরব। পাশাপাশি তিনি তীব্র কটাক্ষ করে শাহকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “কোন শিল্পপতির স্বার্থে হাসিনাকে এতদিন এখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে ?”
এই প্রসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনার ভারত আগমনের ঘটনা উল্লেখ করেন। অভিষেকের মতে, এতদিন পরেও তাঁর আইনি বা কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং কেন্দ্রের উচিত এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া।
‘সোনার বাংলা’ কোথায়?
শাহের প্রকাশিত ইস্তেহারে ‘সোনার বাংলা’ স্লোগান না থাকায় কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি আর ‘সোনার বাংলা’ শব্দটা শুনলাম না। হয়তো ওঁরা ধরে নিয়েছেন বাংলা ইতিমধ্যেই ‘সোনার বাংলা’ হয়ে গিয়েছে।” তাঁর মতে, গত কয়েক বছর ধরে যে স্লোগান বিজেপির প্রচারের কেন্দ্রে ছিল, তা এ বার অনুপস্থিত থাকায় রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট।
ভোটের আগে এই ধরনের পাল্টা মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত। সব মিলিয়ে, ইস্তেহার প্রকাশের পর অনুপ্রবেশ ইস্যুতে পাল্টা এই প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে তৃণমূল। বিশেষ করে হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গ সামনে এনে কেন্দ্রের নীতির সামঞ্জস্য ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। ভোটের আগে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার।


