Aaj India desk, বুদাপেস্ট: একটি গান কিন্তু তাকে ঘিরে শতবর্ষের ভয় ও বিতর্ক। শোনা যায়, সেই সুর শুনেই নাকি বহু মানুষ নিজের জীবন শেষ করেছেন। আরও চমকে দেওয়ার বিষয় হচ্ছে, পরে দেখা যায় যে গানটির স্রষ্টাও আত্মহত্যা করেন। তাহলে সবই কি কাকতালীয়, নাকি সত্যিই এই সুরের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত অন্ধকার রহস্য?
গানটি কোথা থেকে আসে?
বিতর্কিত সেই গানের নাম গ্লুমি সানডে( Gloomy Sunday) বাংলায় যার অর্থ হচ্ছে ‘বিষণ্ণ রবিবার’। ১৯৩৩ সালে গানটিতে সুর দেন হাঙ্গেরির পিয়ানোবাদক ও সুরকার রেজসো সেরেস। স্বশিক্ষিত এই শিল্পী ১৯৩২ সালে প্যারিসে থাকাকালীন একটি সহজ, কিন্তু অদ্ভুতভাবে বিষণ্ণ সুর রচনা করেন। বলা হয়, ব্যক্তিগত প্রেমভঙ্গ, বেকারত্ব ও দারিদ্রের গভীর হতাশা থেকেই জন্ম নিয়েছিল এই সুর।
কোথায় প্রকাশিত হয়?
গানটি প্রকাশ্যে আসার পরই ইউরোপে নানা গুজব ছড়াতে শুরু করে। বলা হয়, ‘গ্লুমি সানডে ’ (Gloomy Sunday)শুনে কয়েক ডজন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন।
যদিও প্রত্যক্ষ ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবু গানটি দ্রুত ‘সুইসাইড সং’ হিসেবে কুখ্যাতি পায়। কোথাও কোথাও রেডিও সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও প্রচার হয়েছে। এমনকি বিমানে এই গান বাজানো নিষিদ্ধ ছিল—এমন দাবিও শোনা যায়।
কেন বানানো হয়েছিল?
তবে ইতিহাসবিদ ও মনোবিজ্ঞানীরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। ১৯৩০-এর দশক ছিল মহামন্দার সময়। ইউরোপ জুড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বেকারত্ব এবং মানসিক অবসাদ ছিল প্রকট। সেই প্রেক্ষাপটে এক বিষণ্ণ গানের সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনাকে যুক্ত করা সহজ হয়ে পড়েছিল। অনেকের মতে, এটি ছিল সামাজিক আতঙ্ক ও গুজবের ফল, যা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
রহস্য আরও ঘনীভূত হয় ১৯৬৮ সালে, যখন সেরেস নিজেই আত্মহত্যা করেন। যেখানে ‘অভিশপ্ত গান’-এর তত্ত্ব নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। যদিও গবেষকরা মনে করেন, সেটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত মানসিক সংকটের ফল কিন্তু গানের কোনও অলৌকিক প্রভাব নয়।
আজও ‘গ্লুমি সানডে’( Gloomy Sunday) সংগীত ইতিহাসের এক অদ্ভুত অধ্যায়। এটি কি কেবল এক বিষণ্ণ সুর, নাকি মানুষের ভঙ্গুর মনই তাকে অভিশপ্ত করে তুলেছে—প্রশ্নটি এখনও রহস্যে মোড়া।


