স্নেহা পাল, মুম্বই: সিনেমা এখনও মুক্তি না পেলেও তার আগেই নাম ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নীরজ পান্ডের নতুন ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ (Ghooskhor Pandat)।
নীরজ পান্ডে পরিচালিত ও মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত আসন্ন থ্রিলার ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ (Ghooskhor Pandat) এর শিরোনাম ঘিরেই শুরু হয় প্রতিবাদ। ছবির নাম ব্রাহ্মণ সমাজকে অপমান করছে এই অভিযোগ তুলে বিভিন্ন শহরে চলে বিক্ষোভ।
দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে রাষ্ট্রীয় পরশুরাম সেনার ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা সুবাশ চকে মনোজ বাজপেয়ীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। তাঁদের দাবি, ‘ঘুষখোর’ শব্দের সঙ্গে ‘পণ্ডিত’ শব্দ যুক্ত করে একটি সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করা হয়েছে। ইন্দোরেও একই দাবিতে বিক্ষোভ হয়। বেশ কিছু জায়গায় ছবির নির্মাতা ও অভিনেতার বিরুদ্ধে হুমকিও দেওয়া হয়।
আদালতের দরজায় ছবি
বিতর্কের জেরে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পুলিশকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরেই লখনউয়ের হজরতগঞ্জ থানায় ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে FIR ও দায়ের হয়। দিল্লি হাইকোর্টেও ছবির মুক্তি স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়।
কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে ব্যাখ্যা
পরিচালক নীরজ পান্ডে এক বিবৃতিতে জানান, ছবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তাঁর কথায়, “‘পণ্ডিত’ এখানে কোনও সম্প্রদায়ের প্রতীক নয়, এটি শুধু একটি চরিত্রের নাম। ছবিটি কোনও ধর্ম বা জাতির বিরুদ্ধেও নয়।” বিতর্কের কথা মাথায় রেখে আপাতত ছবির সব প্রোমোশনাল কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “মানুষের আবেগ ও উদ্বেগকে আমি সম্মান করি। কোনও কাজ যদি কারও অনুভূতিতে আঘাত করে, তা গুরুত্ব দিয়ে ভাবা প্রয়োজন।”
‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ (Ghooskhor Pandat) আদতে একটি পুলিশ থ্রিলার মুভি, যেখানে মনোজ বাজপেয়ী (Manoj Bajpayee) অভিনীত চরিত্র একজন দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসার। নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও বিতর্ক ও আইনি জটিলতার কারণে এখনও এর মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।


