Aaj India desk, মুম্বই: ক্যামেরার সামনে তিনি যতটা নির্ভীক, আদালতের কাঠগড়ায় ততটা নয়—এমনই ফিসফাস বি-টাউনে। ঝলমলে পোশাক, তুখোড় সংলাপ আর অফ-স্ক্রিন উচ্ছ্বাসের জন্য পরিচিত রণবীর সিংহকে (Ranveer Singh) এবার দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন মঞ্চে। কারণ, একটি বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, আর সেখানেই বিচারকের কড়া পর্যবেক্ষণে খানিক অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে অভিনেতাকে।
মামলাটি দায়ের হয়েছিল একটি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু ঘিরে। অভিযোগ, বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত বার্তা সমাজের একটি অংশের ভাবাবেগে আঘাত করেছে এবং তা বিভ্রান্তিকরও হতে পারে। এই প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় আদালত প্রশ্ন তোলে—জনপ্রিয় তারকা হিসেবে কোনও পণ্যের প্রচারে অংশ নেওয়ার আগে তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে কি যথেষ্ট সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল?
জানা যায়, তারকাখ্যাতি দায়মুক্তির ঢাল হতে পারে না। বিজ্ঞাপন বা প্রচারে যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। যদিও রণবীর সিংহ(Ranveer Singh) ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, তাঁর আইনজীবী পক্ষ আদালতে জানান—অভিনেতা কেবলমাত্র চুক্তিবদ্ধ শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন, সৃজনশীল বিষয়বস্তুর চূড়ান্ত অনুমোদন তাঁর হাতে ছিল না।
কিন্তু পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, জনমানসে প্রভাবশালী মুখদের ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধের মানদণ্ডও আলাদা হওয়া উচিত। মামলাটি এখনও বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হয়নি। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষকেই দায়ী বা নির্দোষ ঘোষণা করা যাচ্ছে না রণবীর সিংহকে( Ranveer Singh)।
বলিউডের অন্দরে অবশ্য আলোচনা অন্যখানে—“ইমেজ ম্যানেজমেন্ট” কি নতুন করে ভাবতে হবে? সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীদের একাংশ অভিনেতার পাশে দাঁড়ালেও, অন্য অংশের মত—তারকাদেরও সচেতন হওয়া দরকার।
গ্ল্যামার জগতের আলো ঝলমল থেকে আদালতের কাঠগড়া—এই যাত্রাপথ মনে করিয়ে দিল, আলো যত উজ্জ্বল, নজরও তত তীক্ষ্ণ।


