Aaj India Desk, কলকাতা: ভোটের মুখে সরগরম রাজ্য। এর মধ্যেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শনিবার সকালে ফের নাকতলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা এলাকায় চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। তবে ভোটের আগে এই তৎপরতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
নাকতলায় পার্থর দরজায় ইডির ‘নক’
শনিবার সকাল প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ EDর একটি দল নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছায়। সূত্রের খবর, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দফায় দফায় দফতরে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রেক্ষিতেই বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেয় ED। বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়।
নিউটাউনে ‘মিডলম্যানে’র অফিসে অভিযান
একই সময়ে নিউটাউনে প্রসন্ন কুমার রায়ের অফিসেও তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের মতে, শিক্ষক নিয়োগ মামলায় তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, অসুস্থ সুজিত বসুর পরিবর্তে তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষকেও পুনরায় তলব করেছে ইডি। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখনও সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছাননি।
ভোটের আগে বিতর্ক
এই তল্লাশি ও তলবের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শাসকদলের নেতারা এটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ’ বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের মতে, বারবার তৃনমূলের নেতা প্রার্থীদের টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় প্রথমে অর্পিতা গ্রেফতার হন, পরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করে ED। পরবর্তীতে সিবিআই-ও তদন্ত শুরু করে এবং ‘শোন অ্যারেস্ট’-এর মাধ্যমে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর গত বছরের নভেম্বর মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তির পর ED একাধিকবার তাঁকে তলব করেছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে দফায় দফায় হাজিরা দিতে অক্ষমতার কথা জানান তিনি। সেই কারণেই এবার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ED।
তবে ভোটের আগেই ইডির এই তৎপরতায় প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটের আগে ED সুজিত বসু, রথীন ঘোষের মতো নেতাদের গ্রেপ্তার করতে পারে কিনা সেদিকেই এখন নজর।


