Aaj India Desk, পশ্চিম বর্ধমান : বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোট প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তবে এবার ভোটের ডিউটির চিঠি এসে পৌঁছল এমন এক কর্মীর নামে, যিনি আর বেঁচে নেই। অন্যদিকে শারীরিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম এক কর্মীকে শো-কজের মুখে পড়তে হল। পশ্চিম বর্ধমানের এই একাধিক ঘটনা শুধু প্রশাসনিক ত্রুটির ইঙ্গিতই নয়, মানবিক সংবেদনশীলতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে।
মৃতের স্মৃতিতে আঘাত
চিত্তরঞ্জনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক শাখায় যখন ভোটের ডিউটির চিঠি পৌঁছয়, প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল। কিন্তু নামটি দেখে স্তব্ধ হয়ে যান সহকর্মীরা। চিঠিতে নাম ছিল শিখা সিংহ মোদকের যিনি গত বছরের এপ্রিলেই মারা গিয়েছেন। একটি সরকারি চিঠি যেন হঠাৎ করেই তাঁর অনুপস্থিতিকে নতুন করে সামনে এনে দেয়। সহকর্মীদের কথায়, “এটা শুধু ভুল নয়, খুব কষ্টেরও।” পরে সেই চিঠি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে ফেরত পাঠানো হয়।
শারীরিক অক্ষমতায় মিললো শোকজ নোটিস
একই শাখার সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রশান্ত প্রসাদ, যিনি ৫০ শতাংশ বিশেষভাবে সক্ষম, তিনিও পড়েন জটিলতায়। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বারবার আবেদন করার পরও তাঁকে প্রশিক্ষণে ডাকা হয়। উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁর হাতে পৌঁছে যায় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) শো-কজ নোটিস। এই ঘটনায় তাঁর মানসিক চাপে পড়ার কথাও সহকর্মীরা জানান। পরে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক তাঁর অবস্থা যাচাই করে ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেন।
একই দিনে দু’জায়গায় ট্রেনিং
রূপনারায়ণপুর শাখার ম্যানেজার অর্ক কবিরাজের অভিজ্ঞতাও আলাদা নয়। একই দিনে দুটি আলাদা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণের চিঠি পেয়ে তিনি পড়েন চরম দোটানায়। দায়িত্ব এড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না, কিন্তু বাস্তবের সীমাবদ্ধতাও ছিল স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত একটি কেন্দ্রেই প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি বিষয়টি জানিয়ে দেন।
এই ঘটনাগুলি একসঙ্গে সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্ন উঠে আসছে যে এটা কি শুধুই প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি, নাকি এর আড়ালে কোথাও মানবিক সংবেদনশীলতার অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে? ভোটের মতো বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিখুঁত পরিকল্পনা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি প্রতিটি মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার দায়িত্বও।
একটি সরকারি চিঠি অনেক সময় শুধু তথ্য বহন করে না, তা মানুষের ব্যক্তিগত বাস্তবতা, আবেগ এবং পরিস্থিতির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে যায়। মৃত সহকর্মীর নামে চিঠি পৌঁছানো পরিবার ও সহকর্মীদের জন্য অপ্রত্যাশিত মানসিক আঘাত তৈরি করেছে। আবার শারীরিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম কোনও কর্মীর ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই ছাড়াই নোটিস পাঠানো তাঁর ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের ঘটনাগুলি মনে করিয়ে দেয়, প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি সংবেদনশীলতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু ভোট করানোর আড়ালে কমিশনের এই ধরনের অমানবিক আচরণ ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় স্তব্ধ সাধারণ মানুষ।


