Aaj India Desk, কলকাতা : ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশের আয়কর ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এ প্রস্তাবিত সংশোধন অনুযায়ী চালু হচ্ছে নতুন আয়কর আইন, বাড়ছে কিছু করের হার, আবার কিছু ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে ট্যাক্স কালেক্টেড অ্যাট সোর্স (TCS)। পাশাপাশি আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার সময়সীমাতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন আয়কর আইন আগামী অর্থবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ১৯৬১ সালের আয়কর আইনকে প্রতিস্থাপন করা হবে। যদিও আয়কর স্ল্যাবে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি এবং বর্তমান স্ল্যাবই বহাল থাকবে।
অন্যদিকে, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমাতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অডিটবিহীন করদাতাদের জন্য ITR-3 এবং ITR-4 জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ আগস্ট করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে হত। তবে ITR-1 এবং ITR-2 জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগের মতোই ৩১ জুলাই থাকবে।
এছাড়া সংশোধিত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়া যেত, এখন তা ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা যাবে। তবে ৩১ ডিসেম্বরের পরে সংশোধিত রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।
বাজেট ২০২৬-এ ট্যাক্স কালেক্টেড অ্যাট সোর্স (TCS)-এর হারেও একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে।
- মদ বিক্রিতে TCS ১% থেকে বাড়িয়ে ২% করা হয়েছে
- তেন্ডু পাতা বিক্রিতে ৫% থেকে কমিয়ে ২%
- স্ক্র্যাপ বিক্রিতে ১% থেকে বাড়িয়ে ২%
- কয়লা, লিগনাইট ও লৌহ আকরিক বিক্রিতে ১% থেকে বাড়িয়ে ২% করা হয়েছে
বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। লিবারালাইজড রেমিট্যান্স স্কিম (LRS)-এর আওতায় বিদেশ ভ্রমণ প্যাকেজে TCS ৫% বা ২০% থেকে কমিয়ে ২% করা হয়েছে। বিদেশে পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য অর্থ পাঠালেও TCS ৫% থেকে কমিয়ে ২% করা হয়েছে।
স্টক মার্কেটে ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ের উপর সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT)-এর হারও বাড়ানো হয়েছে। ফিউচারস ট্রেডে ০.০২% থেকে ০.০৫%, আর অপশন ট্রেডে ০.১% থেকে ০.১৫% করা হয়েছে। এর ফলে ফিউচার ও অপশন (F&O) ট্রেডারদের লেনদেন খরচ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
শেয়ার বাইব্যাক সংক্রান্ত কর ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে শেয়ার বাইব্যাক থেকে পাওয়া অর্থ ডিভিডেন্ড হিসেবে করযোগ্য ছিল। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে তা ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে করযোগ্য হবে। প্রোমোটার শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাইব্যাক করও প্রযোজ্য হবে, কর্পোরেট প্রোমোটারের জন্য ২২% এবং নন-কর্পোরেট প্রোমোটারের জন্য ৩০%।
ডিভিডেন্ড আয়ের কর ব্যবস্থাতেও নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। এপ্রিল ২০২৬ থেকে ডিভিডেন্ড আয়ের উপর সুদের খরচ আর কর ছাড় হিসেবে দাবি করা যাবে না। ফলে ডিভিডেন্ড আয় সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী করযোগ্য হবে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনগুলি আয়কর ব্যবস্থাকে কিছুটা সহজ করতে পারে, তবে শেয়ার বাজারের ট্রেডার এবং কিছু বিনিয়োগকারীর উপর করের চাপ বাড়তে পারে। তাই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে করদাতাদের আর্থিক পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


