Aaj India Desk, হরিয়ানা: সম্প্রতি পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে জমা অর্থ অন্যত্র স্থানান্তরের অনুরোধ আসে ব্যাংকে। কিন্তু সেই রুটিন যাচাই থেকেই সামনে আসে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকার বড়সড় গরমিল। হরিয়ানা সরকারের একাধিক দপ্তরের অ্যাকাউন্টে এই অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর চাপে পড়ে IDFC First Bank।
চলতি বছরে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি একটি দপ্তর তাদের জমা অর্থ অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য অ্যাকাউন্ট বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে বললে নিয়মিত যাচাইয়ের সময় দেখা যায়, ব্যাংকের নথিভুক্ত টাকার অঙ্ক এবং দপ্তরের দাবি করা অঙ্কের মধ্যে অমিল রয়েছে। প্রথমে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও ১৮ ফেব্রুয়ারির পর একাধিক সরকারি সংস্থা একই ধরনের অভিযোগ জানায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গরমিল মূলত চণ্ডীগড় শাখায় হরিয়ানা সরকারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে সীমাবদ্ধ। IDFC First Bank এর কর্তৃপক্ষ শেয়ারবাজারে জমা দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, অন্যান্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে এমন সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে মোট অঙ্ক প্রায় ৫৯০ কোটিতে পৌঁছনোর কারণে বিষয়টি গুরুতর হয়ে উঠেছে।
খবর প্রকাশ্যে আসার পর শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়ে। একদিনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও সরকারি আমানতের নিরাপত্তা নিয়েই বিনিয়োগকারীদের মূল উদ্বেগ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে IDFC First Bank একটি ফ্রড মনিটরিং কমিটির বৈঠক ডাকে। অডিট কমিটি ও বোর্ড অফ ডিরেক্টরস নিয়েও একটি বৈঠক করা হয়। এরপর একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থাকে স্বাধীন ফরেনসিক অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সন্দেহভাজন কয়েকটি গ্রাহক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে এবং অন্যান্য ব্যাংককেও সতর্ক করা হয়।
ব্যাংক সূত্রে দাবি, কিছু কর্মীর অনুমোদনহীন কার্যকলাপ এবং বাইরের ব্যক্তিদের সম্ভাব্য যোগসাজশের ফলেই এই অনিয়ম হয়েছে। ব্যাংকের সেই চার কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত আর্থিক প্রভাব নির্ভর করবে কত টাকা পুনরুদ্ধার করা যায়, বিমা সুরক্ষা কতটা কার্যকর হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির উপর।
এই ঘটনার জেরে হরিয়ানা সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে সমস্ত লেনদেন আপাতত স্থগিত রেখেছে। তদন্ত চলাকালীন প্রশাসনিক পর্যায়েও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।


