Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: আগামী লোকসভা নির্বাচন (Lok Sabha Elections) থেকেই কি বদলাতে চলেছে আসন বিন্যাসের ছবি? মহিলা সংরক্ষণ বিলের সংশোধন ঘিরে বড়সড় পরিকল্পনা নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই অধিবেশনেই লোকসভায় পেশ করা হবে সংশোধিত বিল। এখন দেখার, এই প্রস্তাবে বিরোধী দলগুলি শেষ পর্যন্ত সমর্থন জানায় কি না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে সংসদে পাস হয়েছিল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। সংসদ থেকে বিধানসভা-সব স্তরের আইনসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, মোট আসনের ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে সেই সময় এই সংরক্ষণ কার্যকর করার নির্দিষ্ট বিধান তৈরি হয়নি। কেন্দ্রের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, জনগণনা ও আসন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এই আইন কার্যকর করা হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৯ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন থেকেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, আগামী সপ্তাহের ১৬, ১৭ এবং ১৮ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যেখানে মহিলা সংরক্ষণ বিলের সংশোধনী পাস করানোর চেষ্টা হবে। অন্যদিকে, এই সংশোধনী নিয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকতে উদ্যোগী হয়েছে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ১৫ এপ্রিল এই বৈঠক ডাকতে পারেন কংগ্রেস (Congress) সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। যদিও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আবহে তৃণমূল (TMC) এই বৈঠকে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমনকী, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে তৃণমূলের চূড়ান্ত অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে, সংশোধিত বিলকে সমর্থন করার ইঙ্গিত দিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর এমনই বার্তা সামনে এসেছে। তবে জনগণনা ছাড়া আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে দলটি। এই বিষয় নিয়ে ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবিও তুলতে পারে ইন্ডিয়া জোট।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়েও আপত্তি তুলেছিল বিরোধীরা। এর জবাবে বিজেপি (BJP) বিরোধীদের ‘নারী-বিদ্বেষী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে। কেন্দ্রের যুক্তি, এখনই যদি সংশোধিত বিল পাস না করা হয়, তাহলে ২০২৯ সালের মধ্যে আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে না। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা।


