Aaj India Desk, বাঁকুড়া : প্রথম দফার ভোটের আগেই রাজ্য জুড়ে চলছে রক্তারক্তি। এর মধ্যেই শুক্রবার সন্ধ্যার পর হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাঁকুড়া (Bankura) স্কুলডাঙা এলাকা। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ঘটনায় সরাসরি তৃনমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা।
লাঠি ও হকি স্টিক দিয়ে মারধর
শুক্রবার বাঁকুড়া (Bankura) স্কুলডাঙার এবিটিএ হল-এ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের একটি বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে নেতা ভাস্কর ঘোষ ও অন্যান্যরা স্থানীয় একটি মন্দিরের সামনে বসেছিলেন বলে জানা যায়। তাঁদের অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎই প্রায় ৪০ জনের একটি দল সেখানে হামলা চালায়। তাঁদের মতে, তৃণমূল ছাত্রনেতা সুরজ বক্সের নেতৃত্বে এই হামলা হয়। হামলাকারীরা লাঠি, বাঁশ ও হকি স্টিক ব্যবহার করে মঞ্চের নেতা অরিন্দম মণ্ডলকে লক্ষ্য করে মারধর করে। ঘটনায় অরিন্দম মণ্ডল গুরুতর জখম হন। তাঁর সহকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরিকল্পনা করে আক্রমণ
ভাস্কর ঘোষের দাবি, এই হামলা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর অভিযোগ, বৈঠক শেষ হওয়ার পর থেকেই তাঁদের ওপর নজর রাখা হচ্ছিল এবং সুযোগ বুঝেই হামলা চালানো হয়। তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল সরাসরি প্রাণনাশ। তাঁর কথায়, “ওরা পরিকল্পনা করে আক্রমণ করেছে। অরিন্দমকে মারার উদ্দেশ্যেই মাথা ও মুখ লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়।”
ভাস্কর ঘোষ আরও বলেন, শুধু অরিন্দম নন, তিনিও হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, উপস্থিত অন্যদের প্রাণভয়ে সরে যেতে হয়। তাঁর অভিযোগ, এই হামলার মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শাসকদলের নেতারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। ঘটনার পর বাঁকুড়া (Bankura) স্কুলডাঙা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


