Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) প্রাক্কালে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোসাবা। বিজেপি(BJP)-এর একটি ঘরোয়া বৈঠকে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল(TMC)-এর বিরুদ্ধে। গতকাল গোসাবার রাঙাবেলিয়া এলাকায় বিজেপির ওই বৈঠক চলাকালীন হঠাৎই সেখানে ঢুকে কর্মীদের উপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাঙাবেলিয়া অঞ্চলে বিজেপির একটি ঘরোয়া বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজাপুর পূর্ব পাড়ার ১৫৫ নম্বর বুথের বিজেপি কর্মী রমেন মাইতির বাড়িতে সেই বৈঠক চলছিল। অভিযোগ, রাত প্রায় ৮টা নাগাদ উপপ্রধান মোসলেম মোল্লার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল সেখানে হানা দেয়। তাদের হাতে ছিল লাঠি, লোহার রড এবং ধারালো অস্ত্র। অভিযোগ, আচমকাই বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ চালানো হয়।
প্রাণভয়ে অনেকেই সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও দীপকুমার বেরা ও সুবীর মণ্ডল বেরোতে পারেননি। তাঁদের উপর নৃশংসভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, দীপকুমার বেরাকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি জমিতে নিয়ে গিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। তাঁর কাঁধ, মুখ এবং বুকে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, সুবীর মণ্ডলের গলা টিপে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁর মুখেও নখের আঁচড়ের স্পষ্ট দাগ রয়েছে।
আহত দীপকুমার বেরা জানিয়েছেন, “অন্ধকারের সুযোগে উপপ্রধান মোসলেম মোল্লা, আলি মোল্লা ও রহিম গাজী আমাকে মারতে মারতে জমিতে নিয়ে যায়। বাকিদের চিনতে পারিনি, তবে প্রায় ৫০-৬০ জন ছিল।”
ঘটনার খবর পেয়ে রাত প্রায় ১১টা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছন গোসাবার বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর। আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পর তিনি সরাসরি গোসাবা থানায় যান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। বিকর্ণ নস্করের অভিযোগ, “তৃণমূল গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করতে চাইছে। পুলিশ বলছে, এই ধরনের ঘটনায় নাকি গ্রেফতার সম্ভব নয়! আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার না করা হলে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থককে নিয়ে গোসাবা থানা ঘেরাও করা হবে।”
এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


