Aaj India Desk, কলকাতা: শেষ বিধানসভা ভোটে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে নন্দীগ্রামে পরাজিত করেছিলেন তিনি। এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন মমতার ঘাঁটিতেই। নন্দীগ্রামে লড়াই তো আছেই, পাশাপাশি ভবানীপুরেও বিজেপি-র প্রার্থী হিসেবে নামছেন তিনি। ফলে লড়াই যে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-কে ঘিরে এখন একটাই বড় প্রশ্ন-যদি সত্যিই পালাবদল ঘটে, তাহলে কি তিনি বিরোধী দলনেতার আসন ছেড়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন? এই জল্পনাই এখন ভোট-বাংলার আলোচনার কেন্দ্রে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন তাঁর শক্তি প্রদর্শন ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই রোড শো-তে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নিজে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই ঘটনাই বিজেপির অন্দরে শুভেন্দুর প্রভাব ও অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে দেয়। যদিও এই জল্পনা নিয়ে আগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, কর্মীদের আবেগ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ উঠছে, তবে দলের মুখ হচ্ছেন মোদীজি। কর্মীদের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে দলই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তবুও জল্পনা থামেনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি।
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলে এই প্রসঙ্গেই প্রশ্নের মুখে পড়েন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। ‘আপনি কি মুখ্যমন্ত্রী হবেন?’—এই সরাসরি প্রশ্নের জবাবে তিনি খুব ঠান্ডা মাথায় প্রতিক্রিয়া দেন। কোনও নির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে বলেন, বিজেপি একটি সংগঠিত দল, যেখানে সবাই একসঙ্গে লড়াই করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের অপসারণই দলের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার আগেই জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে রাজ্যে বিজেপির যে-ই মুখ্যমন্ত্রী হন না কেন, তিনি আমিষাশী হবেন। অন্যদিকে দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের বক্তব্য ছিল, মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি নেই। দলের নির্দিষ্ট বোর্ডই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
শুভেন্দুও (Suvendu Adhikari) একই সুরে বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত কোনও লক্ষ্য নেই। দলের কোনও নির্বাচিত বিধায়কই মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, কারণ বিজেপি একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোয় পরিচালিত দল। তবে সরাসরি প্রশ্নে তিনি মন্তব্য এড়িয়েই যান।
রাজ্যে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী শোনায় তাঁর গলা। তাঁর দাবি, দল কোনও বিভাজনের রাজনীতি করছে না। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, বিহারের সাফল্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আগে ওড়িশা জয়ের পর এবার লক্ষ্য বাংলা। তাঁর স্লোগান-“জয় মা কালী”,সঙ্গে অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গ জয়ের প্রত্যয়ও স্পষ্ট করে দেন তিনি।


