Aaj India Desk, কলকাতা: প্রায় ৯০ লক্ষের বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি তপ্ত। এই পরিস্থিতিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব একসুরে বিজেপি (BJP)-কে আক্রমণ শানিয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Bandopadhyay) গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশই হিন্দু বাঙালিদের।
অভিষেকের কথায়, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, :জোর করে বাংলা দখলের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হবে না’। তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলার মাটি বরাবরই প্রতিবাদের ইতিহাস বহন করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার থাকলে কোনওভাবেই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, জনগণের রায়ই শেষ কথা বলবে-এই বার্তাও দেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার একই ইস্যুতে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। তিনি অভিযোগ করেন, মতুয়া, রাজবংশী এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩২ লক্ষ নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যাঁদের নাম এখনও ফেরানো যায়নি, তাঁদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজন হলে অ্যাপেলিয়েট ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বহু বছর ধরে দেশে বসবাসকারী নাগরিকদের কেন আবার নতুন করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কোনও বৈধ ভোটারকে বাংলার বাইরে ঠেলে দেওয়া হবে না।
তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনাকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে দেখছে না। তাদের দাবি, এটি বাঙালির পরিচয় ও অধিকার খর্ব করার এক সুপরিকল্পিত প্রয়াস। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে প্রতিটি ব্লকে বিশেষ আইনি সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


