কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন নিয়ে দায়ের করা মামলায় বড় নির্দেশ। ‘তথ্যগত অসঙ্গতির’ (List of Discrepancies) কারণে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত। সেইসঙ্গে শুনানির জন্য কারও কাছ থেকে নথি গ্রহণ করা হলে তাঁর পরিবর্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে রসিদ দিতে হবে বলে, বলেও জানালো সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
উল্লেখ্য, ‘তথ্যগত অসঙ্গতির’ কারণে পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়েছিল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম। পরে বাদ পড়া ভোটারদের শুনানিতে ডাকার পর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল ৯৪ লক্ষে। তথ্যগত অসঙ্গতির নামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ নেওয়া নিয়ে সরব হয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল তৃণমূল।
সোমবার সেই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ ‘তালিকা প্রকাশের’ রায় দেয়। পাশাপাশি, এসআইআর শুনানির সময় বিএলএ-দের থাকতে দেওয়ার দাবিও মেনে নিয়েছে আদালত। এদিনের শুনানিতে রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির (List of Discrepancies) তালিকা টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে, যেখানে ভোটাররা নথি জমা দিতে এবং আপত্তি জানাতে পারবেন। নথি জমা হলে ভোটারকে লিখিত রসিদ প্রদান ও প্রাপ্তিস্বীকার গ্রহণ করতে হবে, পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, বলে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে অভিষেকের তোপ
এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের পর নির্বাচন কমিশন সহ বিজেপিকে একহাত নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসাতের সভা থেকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “বিজেপির এসআইআর (SIR) গেম ওভার! কমিশনকে তথ্যগত অসঙ্গতির (List of Discrepancies) তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। বিএলএ-দের শুনানিকেন্দ্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিজেপির এক কোটি নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা ভেস্তে গেল”।
বিএলএ-দের উপস্থিতিতে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া কতটা কার্যকর হবে, উঠছে প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সহ তৃণমূল কংগ্রেস খানিক স্বস্তি পেলেও, শুনানি কেন্দ্রে বিএলএ-দের উপস্থিতিতে ভুয়ো , মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া কতটা সম্ভব হবে, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, এসআইআর-এর ফর্ম-৭ জমা নিয়ে রাজ্যে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত অব্যাহত। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিজেপি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কিছুটা স্বচ্ছতা এলেও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


