স্নেহা পাল, লখনউ: ১৮ জানুয়ারি দিল্লি থেকে বাগডোগরাগামী ইন্ডিগো (Indigo) এয়ারলাইন্সের একটি বিমান থেকে উদ্ধার হয় বোমা থাকার হুমকি বার্তা। সেই হুমকিবার্তা পাওয়ার পরই পাইলট লখনউতে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।
টয়লেটে টিস্যু পেপারে হুমকিবার্তা
সূত্রের খবর, রবিবার সকালে দিল্লি থেকে উড়ে আসা ইন্ডিগোর ওই বিমানের বাথরুমে একটি টিস্যু পেপারে হাতে লেখা ছিল ‘ভেতরে বোমা আছে’। এক যাত্রী প্রথমে বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান। এরপর পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি অবতরণের অনুমতি চান।
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বিমান
বিমানটি লখনউ বিমানবন্দরে অবতরণের পর সঙ্গে সঙ্গে আইসোলেশন বেতে নিয়ে যাওয়া হয়। CISF এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা বিমান ঘিরে তল্লাশি শুরু করেন। সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে নামানো হয় এবং প্রত্যেকের লাগেজ আলাদা করে স্ক্যান করা হয়।
এই বিমানে ছিলেন ৮ জন শিশু সহ মোট ২৩৮ জন। এছাড়াও ছিলেন ২ জন পাইলট এবং ৬ জন কেবিন ক্রু।প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত যাত্রী সুরক্ষিত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক তল্লাশিতে কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ঘটনার উৎস এবং হুমকির সত্যতা জানতে তদন্ত চলছে।
প্রশ্নের মুখে ইন্ডিগো বিমানের নিরাপত্তা
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেও একাধিক ইন্ডিগো (Indigo) বিমানে বোমার হুমকি এবং জরুরি অবতরণের ঘটনা ঘটেছিল। যদিও সেই সব ক্ষেত্রেই তল্লাশির পর কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
পরপর একাধিকবার ইন্ডিগো (Indigo) বিমানে বোমা থাকার হুমকির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হুমকি ভুয়ো প্রমাণিত হলেও, টিস্যু পেপার বা ই-মেলের মাধ্যমে এমন বার্তা কীভাবে বিমানের ভিতরে পৌঁছচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।


