কলকাতা: আমজনতার করের টাকায় মেলা-খেলা-প্রকল্প-ভাতার পর শুরু হয়েছে মন্দির নির্মাণ! শুক্রবার শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় মুখ্যমন্ত্রী মহাকাল মন্দিরের (Mahakal Mandir) শিলান্যাসের পর বক্তব্য রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশনের ঘোষণাও হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে সপ্তম পে কমিশনের আওতায় ৫৮ শতাংশ ডিএ (DA) পাচ্ছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা মোটে ১৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। ডিএ বাড়ানোর দাবীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জবাব, “রাজ্যের কোষাগারে অত অর্থ নেই। ভোটের আগে ‘মন ভোলানোর জন্য’ যদি মমতা-সরকার অন্তত এক কিস্তির ডিএ দেয়, সেইদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা। এদিকে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রাজ্যের মহার্ঘ মামলা। শীতকালীন ছুটি কাটিয়ে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট খুললেও এখনও রায়দান হয়নি।
“মেলা থেকে মন্দির সব হচ্ছে, বঞ্চিত কেবল আমরা”
শুক্রবার শিলিগুড়ির মাটিগাড়া লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকায় ১৭.৪১ একর জমির উপর মহাকাল মন্দিরের (Mahakal Mandir) শিলান্যাস হতেই তাই রাজ্য সরকারের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের একাংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মচারীর কথায়, “মেলা-খেলা-ভাতা এমনকি দার্জিলিং থেকে দিঘা মন্দির বানানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অর্থ আছে। আমাদের করের টাকাতেই এসব হচ্ছে। অথচ আমাদের প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা (DA) দেওয়ার বেলায় সরকার হাত তুলে নিচ্ছে”।
আরও এক সরকারি কর্মচারীর অভিযোগ, “বর্তমানে আমাদের মত মধ্যবিত্ত সরকারি কর্মচারীরা এই সরকারের কাছে ব্রাত্য।” এক রাজ্য সরকারের পেনশনভোগী বলেন, “এই দুর্মূল্যের বাজারে আমাদের মত বয়স্কদের ওষুধ, চিকিৎসার খরচ আছে। সারাজীবন চাকরি করে এই বয়সে যদি নিজেদের হকের পাওনা না পাই, তাহলে আমরা যাব কোথায়?”
“বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মহাকাল মন্দির”, বললেন মমতা
মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, “বাংলাকে এক নম্বর করব বলেছিলাম, করেই ছাড়ব”। এদিন তিনি ঘোষণা করেন, ১৭.৪১ একর জমির উপর কেবল বিশাল মন্দিরই নয়, ২৪৬ ফুটের বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মন্দিরও স্থাপন করা হবে।
১০৮ ফুট ভিতের উপর ১০৮ ফুট উচ্চতার মূল মূর্তিটি স্থাপিত হবে। শিলিগুড়িতে রাজ্য সরকারের জমিতে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারও তৈরি হবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও, জগন্নাথ ধামের ‘সাফল্যের’ কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই দিঘার জগন্নাথ ধাম ঘুরে এসেছেন। এখন আর দিঘায় জায়গা পাওয়া যায় না”।


