মুর্শিদাবাদ: পেটের টানে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে আমরাই কেন মরব? শুধুমাত্র আমরা মুসলিম (Muslim) বলে? প্রশ্ন করেছিলেন বেলডাঙার (Beldanga) এক বিক্ষোভকারী। আর একজন বলেছিলেন, নিজের দেশেই সুরক্ষিত বোধ করছেন না তাঁরা।
ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজে গিয়ে মৃত বেলডাঙার মহেশপুরের পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Worker) আলাউদ্দিন শেখের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। এদিন রাতের মধ্যেই টাকা পেয়ে যাবে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant worker) পরিবার বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু আদপে কি চাইছেন বেলডাঙার অন্যান্য পরিযায়ী শ্রমিকরা?
“আমরা ভারতবাসী, এই মাটি আমাদেরও”
এদিন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার পুলিশ সুপার সানি রাজ ও জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়াকে দৃপ্ত কন্ঠে একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আর্জি জানালেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “যে চলে গেছে তাঁর পরিবারকে টাকা, চাকরি দিচ্ছেন খুব ভালো। কিন্তু আমরা চাই, আমাদের যেন আর কোনও মুসলিম ভাই ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মারধোর বা খুনের শিকার না হয়”।
পাশাপাশি, সকল পরিযায়ী শ্রমিককে লেবার কার্ড ও সেই কার্ড দেখিয়ে যেন নিরাপত্তা পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থার আর্জি জানান ওই পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Worker)। তিনি আরও বলেন, “আমরা কেন্দ্র হোক বা রাজ্য কোনও সরকারের কথা শুনব না। আমাদের আর কোনও ভাই মুসলিম হওয়ার জন্য মারা গেলে এর চেয়ে বড় আন্দোলন হবে। আইন হাতে নেওয়ার জন্য যদি মরতে হয় মরব, কিন্তু জায়গা ছাড়ব না। আমরা ভারতবাসী। এটা আমাদের মাটি।”
বাংলাদেশী সন্দেহে ভিনরাজ্যে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের মারধোর, অত্যাচারের ঘটনা নতুন নয়। খুনের অভিযোগও রয়েছে একাধিক। তবে শুক্রবার বেলডাঙার এই আন্দোলন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিজেদের দেশেই কেবলমাত্র মুসলিম (Muslim) হওয়ার জন্য সুরক্ষিত বোধ করছেন না তাঁরা। এটা ভারতের মত বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের কাছে লজ্জার।


