মুর্শিদাবাদ: ঝাড়খন্ডে কাজে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিককের(Migrant Worker) মৃত্যুর ঘটনায় বেলডাঙায় ধুন্ধুমার! জাতীয় সড়ক থেকে রেললাইন, অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয়রা। “সবসময় মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ছেলেরাই কেন মরবে?” মুখ্যমন্ত্রী না আসা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে বলে হুঁশিয়ারি বিক্ষুব্ধ জনতার। জানা গিয়েছে, মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩০), বাড়ি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা।
ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজে গিয়েছিলেন তিনি। ঘর থেকে আলাউদ্দিনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়ে জানতে পারে তাঁর পরিবার। অভিযোগ, ভিনরাজ্যে যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। শুক্রবার আলাউদ্দিনের দেহ গ্রামে পৌঁছতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
বেলডাঙার ১২ নং জাতীয় সড়কের পাশাপাশি স্টেশনেও অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন উন্মত্ত জনতা। ভাঙচুর, আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শুক্রবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলডাঙা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী না আসা পর্যন্ত অবরোধ তকা হবে না বলে জানান বিক্ষুব্ধ জনতা।
“প্রতিবার মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকই কেন?”
উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মারধোর এমনকি মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বেলডাঙার মানুষ। তাঁদের প্রশ্ন, “ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে প্রতিবার মুর্শিদাবাদের ছেলেরাই মরবে কেন? আমরা মুসলিম তাই?” এক বিক্ষোভকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস না দিলে আমরা অবরোধ তুলবো না। আমরা নিজেদের দেশেই সুরক্ষিত নই কেন? প্রশাসনকে এর জবাব দিতে হবে”।
বন্ধ লালগোলা-শিয়ালদহ ট্রেন চলাচল
আলাউদ্দিনের মৃত্যুতে জাতীয় সড়কে ভাঙচুর, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসের মাথায় উঠে স্লোগান দিতে থাকে। বেলডাঙা স্টেশনে রেললাইনের উপর বসে পড়েন অনেকে। যার ফলে ব্যাহত হয় লালগোলা-শিয়ালদহ লাইনের ট্রেন চলাচল। পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করলেও তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী বা জেলাশাসক না আসা পর্যন্ত সরবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।


