Aaj India Desk, কলকাতা : সোমবার ভোটের প্রচারের শেষ দিন। এই শেষ দিনে এসেই ফের বিতর্কে জড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ধর্মীয় পরিচয় সহ মন্দির নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
সোমবার শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু নন, তিনি নামাজ পড়েন।” তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী দিঘাতে যে জগন্নাথ মন্দির তৈরি করেছেন সেটা বিজেপির ‘হিন্দু ভোট কাটার উদ্দেশ্যে, মানুষকে ধাপ্পা দিতে তৈরি’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী কোনও সরকার ধর্মীয় স্থান তৈরি করতে পারে না। ওটা একটা কালচারাল সেন্টার হিসেবেই নথিভুক্ত।” অন্যদিকে কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সেগুলি জনতার ভালোবাসার টাকায় তৈরি। সরকারের তৈরি নয়।
এরপরেই তিনি ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের উদাহরণ টেনে বলেন, “সেখানে শুধুমাত্র হিন্দুদের প্রবেশের নিয়ম রয়েছে। মমতাকে আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, একই নিয়ম দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে চালু করুন, অন্য ধর্মকে মন্দিরে ঢুকতে দেবেন না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এ ধরনের বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি মমতাকে ‘অ্যান্টি-হিন্দু’ বলে চিহ্নিত করে হিন্দু ভোটারদের একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি প্রায়ই মুর্শিদাবাদের মতো এলাকায় হিন্দু পরিবারের ‘মাইগ্রেশন’-এর অভিযোগও তুলে ধরেন। তবে সমালোচকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য রাজ্যের ধর্মীয় সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে ধর্মের বিভেদ সৃষ্টি করছে।
শুভেন্দু মূলত বিজেপির নির্বাচনী প্রচার কৌশলের মাধ্যমে তৃণমূলের দুর্বলতা, দুর্নীতি, পরিবারতন্ত্র, সংখ্যালঘু তোষনের বিষয় গুলি তুলে ধরে হিন্দু অসন্তোষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ২০২৬-এর ফলাফলই দেখাবে এই কৌশল আদৌ কতটা কার্যকর।


