স্নেহা পাল, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ফের নিপা (Nipah) ভাইরাস আতঙ্ক। নদিয়ার এক বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিপা (Nipah) সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস খুঁজে পাচ্ছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। আক্রান্ত এক নার্সের নমুনা পরীক্ষায় নিপা (Nipah) ভাইরাস পজিটিভ আসার পর রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নদিয়ার কৃষ্ণনগর ব্লকের এক গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর এক মহিলা নার্স নিপা (Nipah) ভাইরাসে আক্রান্ত হন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ওই নার্স বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর সংস্পর্শে আসা অন্তত ১৩ জনকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
আক্রান্ত নার্স ছাড়াও, তাঁর সহকর্মী এক পুরুষ নার্স, পরিবারের সদস্য, বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি এবং হাসপাতালের একাধিক স্বাস্থ্যকর্মীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর, জেলা প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দল যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়। আক্রান্ত নার্স ১৪ ডিসেম্বর নাগাদ গ্রামে যান এবং কয়েকদিন পর কাজে ফিরে অসুস্থতা অনুভব করেন। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে নিপা (Nipah) সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর ব্লকের একটি গ্রামকে সম্ভাব্য সংক্রমণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আক্রান্ত নার্স বর্তমানে বারাসাত এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার সঙ্গেও সংক্রমণের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের অনুমান, খেজুরের কাঁচা রস (palm date sap ) থেকে নিপা (Nipah) ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। শীতকালে এই রস খাওয়ার প্রবণতা বেশি এবং বাদুড়ের মাধ্যমে তা দূষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত নার্স ওই সময়ে কাঁচা খেজুরের রস পান করে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ।
নিপা (Nipah) ভাইরাস সাধারণত ফলখেকো বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে আসে। দূষিত ফল বা খেজুরের কাঁচা রসের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ায়। পরে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে, বিশেষত হাসপাতাল পরিবেশে। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত আইসোলেশন, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এবং নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
২০০১ সালে শিলিগুড়িতে প্রথমবার নিপা (Nipah) ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, যেখানে ৬৬ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে প্রশাসন। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, এখনও পর্যন্ত নতুন করে কারও মধ্যে নিপার (Nipah) উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় দল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে এবং সাধারণ মানুষকে কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিপা (Nipah) ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্মক হলেও সময়মতো সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।


