29 C
Kolkata
Wednesday, February 11, 2026
spot_img

জুবিনের মৃত্যুর নেপথ্যে কী? আদালতে সিঙ্গাপুর পুলিশের বিস্ফোরক তথ্য

নয়াদিল্লি: সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক যোগ নেই, বলে করোনারের আদালতে জানালো সিঙ্গাপুর পুলিশ। বুধবার আদালতে সিঙ্গাপুর পুলিশের (Singapore Police) তরফে বলা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে লাজারাস দ্বীপের কাছে সমুদ্রে নামার সময় তিনি অত্যধিক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁর গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল না।

উল্লেখ্য, ২০২৫-এর ১৯ সেপ্টেম্বর চিরবিদায় নেন অসমের ভূমিপুত্র জুবিন গর্গ। নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার ঠিক আগের দিন একটি প্রাইভেট ইয়টের পার্টিতে মারা যান তিনি। যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল সমগ্র দেশ।

লাইফ জ্যাকেট খুলে ফেলেছিলেন সঙ্গীতশিল্পী

এদিনের শুনানিতে মুখ্য তদন্তকারী অফিসার বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বরের ইয়ট পার্টিতে আরও ২০ জনের সঙ্গে ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী জুবিন। সেখানে মদ্যপান করা হচ্ছিল বলে জানান ওই আধিকারিক। পার্টি চলাকালীন লাইফ জ্যাকেট পরে জলে নামলেও জুবিন (Zubeen Garg) পরে তা খুলে ফেলেছিলেন বলে দাবী করেন তিনি। এমনকি সঙ্গীতশিল্পী দ্বিতীয়বার জলে নামতে গেলেও তাঁকে লাইফ জ্যাকেট পরতে বলা হয়। কিন্তু তিনি তা শোনেনি বলে দাবী করেন মুখ্য তদন্তকারী অফিসার।

জলে জুবিনকে খাবি খেতে দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জুবিনকে জলে খাবি খেতে দেখেন বেশ কিছু প্রত্যক্ষদর্শী। সঙ্গীতশিল্পী ইয়টে ফিরে আসার প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকেন। এরপর তাঁকে জলে উপুড় হয়ে ভাসতে দেখা গেলে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে ইয়টে ফেরত আনা হয়। সিপিআর দেওয়া হলেও কোনও লাভ হয়নি। ওইদিনই পরে শিল্পীকে হাসপাতালে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় বলে জানান তদন্তকারীরা।

ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে জলে ডুবে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গর্গ-এর শরীরে পাওয়া আঘাতগুলো উদ্ধার ও সিপিআর প্রচেষ্টার কারণে হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ বলেছে, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান

জুবিন গর্গের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার বহু ঊর্ধ্বে ছিল বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুর পুলিশ (Singapore Police)। টক্সিকোলজি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, মৃত্যুর সময় তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের পরিমাণ ছিল প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ৩৩৩ মিলিগ্রাম—যা গুরুতর নেশার ইঙ্গিত দেয়। তদন্তে জানা গেছে, ইয়টে তিনি একাধিকবার মদ্যপান করেছিলেন এবং প্রথমবার সাঁতার কেটে ফিরে এসে ক্লান্ত বলে জানানোর পর আবার সমুদ্রে নামেন। তাঁর হোটেল ঘর থেকেও আংশিক ভর্তি স্কচের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

আদালতে ইয়ট ক্যাপ্টেনের বয়ান পেশ

ঘটনায় ইয়টের ক্যাপ্টেনের বয়ান আদালতে পেশ করে সিঙ্গাপুর পুলিশ। ক্যাপ্টেন জানান, অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় থাকার কারণে দু’জন বন্ধুর সাহায্য জুবিনকে (Zubeen Garg) ইয়টে ফেরানো হয়। দ্বিতীয়বার লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সমুদ্রে নামতে দেখেই তিনি আপত্তি জানান এবং বন্ধুকে সতর্ক করেন। পরে জুবিনকে জলে উপুড় হয়ে ভাসতে দেখে নিজেই সাঁতরে তাঁর দিকে এগিয়ে যান ক্যাপ্টেন। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি, ঘটনায় মোট ৩৫ জন সাক্ষীর বয়ান নেওয়া হবে এবং তদন্ত এখনও চলছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন