কলকাতা: বুধবার সকালে গণ-ইস্তফার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের ২৩৬ টি বুথের বিএলও (BLO)। বেলা গড়াতেই হুঁশিয়ারি বাস্তবায়িত করলেন মুর্শিদাবাদ, হাওড়া জেলার শতাধিক বুথ লেভেল অফিসার।
ফরাক্কায় ২০০ জন বিএলও-র গণ ইস্তফা
এদিন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় একযোগে প্রায় ২০০ জন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) ইস্তফা দিয়েছেন। অভিযোগ, শুরুতে ভোটার তালিকায় থাকা অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ও মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে বলে হলেও এখন কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া নিত্যদিন নতুন নতুন কাজ করানো হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপে সকালে পাঠানো নির্দেশিকা বদলে যাচ্ছে রাতে।
তাই নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন ফরাক্কায় ইস্তফা দেওয়া বিএলও-রা। যদিও মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিএলও-দের ইস্তফা এখনও গ্রহণ করা হয়নি। সুতরাং, তাঁদের নির্দিষ্ট কাজ আপাতত করতেই হবে।
হাওড়ায় গণ-ইস্তফা দিলেন ১৭ জন বিএলও
মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি এদিন হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের বাঁকড়া এক ও দুই নম্বর পঞ্চায়েতে ইস্তফা দিয়েছেন ১৭ জন বিএলও। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অত্যধিক চাপের জেরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তাঁরা। ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
ইস্তফা দেওয়ার জন্য শো-কজ করা হলে তার জন্য প্রস্তুত বলে জানান বিএলও-রা। ঘটনায় ডোমজুড়ের তৃণমূল ব্লক সভাপতি তাপস মাইতির দাবী, অত্যধিক চাপের কারণেই বিএলও-রা গণ-ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আলোকপাত করা উচিৎ।
কমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন মঙ্গলকোটের ২৩৬ টি বুথের BLO
প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের ২৩৬ টি বুথের বিএলও। অভিযোগ, তথ্যগত অসংগতির নামে অত্যধিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। যার জেরে তাঁদের মূল কাজ শিক্ষকতার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ক্ষতি হচ্ছে। এই মর্মে গণ ইস্তফার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। এদিন রাস্তায় নেমে কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনও করেন মঙ্গলকোটের বিএলও-রা।


