পূর্ব বর্ধমান: ৪ নভেম্বর রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই অত্যধিক কাজের চাপের অভিযোগ জানিয়ে আসছেন বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর শুনানি শুরু হতেই প্রায় শেষের দিকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া। এই আবহে কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন মঙ্গলকোটের ২৩৬ টি বুথের বিএলও। অভিযোগ, তথ্যগত অসংগতির নামে অত্যধিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। যার জেরে তাঁদের মূল কাজ শিক্ষকতার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ক্ষতি হচ্ছে। এই মর্মে গণ ইস্তফার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মঙ্গলকোটের বুথ লেভেল অফিসাররা। এদিন রাস্তায় নেমে কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা।
বিএলও-দের ‘তৃণমূলপন্থী’ বলে কটাক্ষ বিজেপির
অন্যদিকে, বিএলও-দের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফের সুর চড়িয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বিক্ষোভ-রত বিএলও-দের “তৃণমূলপন্থী” বলে কটাক্ষ বিজেপির স্থানীয় নেতাদের। উল্লেখ্য, সোমবার কলকাতার সিইও দফতরের সামনে মৃত বিএলও-দের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলপন্থী বিএলও (BLO)-রা।
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজার ৬৮১ জন বুথ লেভেল অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ১৫ হাজার সহকারি বিএলও নিয়োগ করা হয়। গত প্রায় দেড় মাসে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫ জন বিএলও-র। ৪ নভেম্বর এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম দিনেই ‘কাজের চাপে’ মারা যান পূর্ব বর্ধমানেরই নমিতা হাঁসদা।
গত ১০ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের রানিতলায় আত্মহত্যা করেন বিএলও-র দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হামিমুল ইসলাম। এসআইআরের কাজের চাপে গত দেড় মাসে বহু বিএলও-র অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর সামনে উঠে এসেছে।
বারংবার একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও সিইও দফতরের কাছ থেকে কোনও সদুরত্তর পাননি বিএলও (BLO)-রা। তাঁদের বলা হয়েছে, রাজ্যে এসআইআরের কাজ প্রায় শেষ। গত বৃহস্পতিবার দেশের ৫ টি রাজ্য ও ১ টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানো হলেও সেই তালিকায় স্থান পায়নি পশ্চিমবঙ্গ। যা রাজ্যের বিএলও-দের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


