Aaj India Desk, দার্জিলিং : শিলিগুড়ির রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, হাসপাতালের লম্বা লাইন আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মাঝেই ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে এক ভিন্ন সুর। সেই সুর ‘VIP কালচার’ বিরোধী। আর সেই দাবিকেই সামনে রেখে এবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন SUCI প্রার্থী ডাক্তার শাহরিয়ার আলম।
এমপিদের অতিরিক্ত খরচ নিয়ে প্রশ্ন
প্রচারের ময়দানে শাহরিয়ার আলম সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি দেশের সেবা করতে রাজনীতিতে আসা হয়, তাহলে এমপি-এমএলএদের এত ভাতা ও অতিরিক্ত খরচ কেন?” তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় জনআন্দোলনের ফলে সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং ‘VIP কালচার’ কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা কমানোই সঠিক পদক্ষেপ।
পাশাপাশি প্রচারে তিনি শিলিগুড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য লোকাল ট্রেন চালুর দাবি তুলেছেন। শহরের যানজট সমস্যার সমাধান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিকেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। শাহরিয়ারের দাবি, “এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে আইনসভায় পৌঁছানো জরুরি।”
নির্বাচনে আদর্শের লড়াই
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও উল্লেখযোগ্য ফল করতে পারেননি শাহরিয়ার। তবে তাঁর বক্তব্য, জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়, মানুষের কথা বলা জরুরি। তিনি বলেন, “অনেক দিন ধরেই রাজনীতি দুর্নীতিগ্রস্ত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সংযোগ নেই। সেই জায়গায় কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতেই হবে।”
শিলিগুড়ির ‘গরিবের ডাক্তার’
শাহরিয়ার আলম শিলিগুড়িতে পরিচিত মুখ। ২০১৩ সালে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পড়তে এসে শহরকেই নিজের স্থায়ী ঠিকানা বানান। চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি ছাত্ররাজনীতি ও সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে মাত্র ১০০ টাকায় রোগী দেখেন বলে স্থানীয়দের কাছে ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে পরিচিত।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে পূর্ণসময়ের জন্য রাজনীতি ও সামাজিক কাজে যোগ দেন। ২০২১ সালের কৃষক আন্দোলনের সময় দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের চিকিৎসাও করেন। উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বিভিন্ন দুর্যোগে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
শাহরিয়ার আলমের বক্তব্য ও অবস্থানকে অনেকেই সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন। ‘VIP কালচার’ নিয়ে তাঁর প্রশ্ন কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং জনজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গেও যুক্ত। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, এই ধরনের আলোচনাই রাজনীতির মূল ফোকাসকে আবার সাধারণ মানুষের সমস্যার দিকে ফেরাতে পারে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে তাঁর সেই আদর্শ ভোটের বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটাই এবার দেখার।


