কলকাতা: ভোটের ময়দানে শাসক-বিরোধী উভয়েরই অস্ত্র ‘মাছ’ (Fish)। একজন বলছে ওরা এলে মাছ খেটে দেবে না। তো অপরজন এই দাবী খণ্ডাতে মরিয়া। ভোট প্রচারে প্রায় প্রত্যেক জনসভায় গিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভাস পরিবর্তন করিয়ে দেবে। মাছ-মাংস খেটে দেবে না। অন্যদিকে শাসকদলের এই অভিযোগ নস্যাৎ করতে কখনও মাছ (Fish) নিয়ে প্রচার করছেন বিজেপি প্রার্থী, তো খকন বাজার থেকে মাছ কিনে জমা জলে ছেড়ে দিচ্ছেন। এমনকি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তো বলেই দিয়েছেন “বাঙালি মাছ ছাড়া থাকতে পারে নাকি!”
বৃহস্পতিবার হলদিয়ার জনসভায় মোদীর মুখে বেশ বড়সড় ‘মৎস আখ্যান’ শোনা গিয়েছে। তবে আপামর বাঙালির অন্যতম প্রধান খাবার মাছ-ভাতের আবেগ যেভাবে রাজনীতির ময়দানে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা দেখে মনে হচ্ছে গোটা ভারতবর্ষে যেন মাছ খাওয়া জাতি একটাই, তা হল বাঙালি। আদপে জানেন কি মাছ (Fish) খাওয়ার ক্ষেত্রে তালিকায় ঠিক কোন স্থানে আছে পশ্চিমবঙ্গ?
২০২৪ সালেরকৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীন Indian Council of Agricultural Research (ICAR)-এর তথ্য অনুযায়ী, মাছ খাওয়ার তালিকায় প্রথম তিনেই নেই পশ্চিমবঙ্গ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি মাছ খাওয়ার তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা, দ্বিতীয় স্থানে মণিপুর এবং তৃতীয় স্থানে অসম। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে।
এই পরিসংখ্যান কার্যত সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে বলা হয়ে থাকে যে কিছু রাজ্যে আমিষ খাদ্য গ্রহণে বাধা রয়েছে। বরং রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরা ও অসম মাছ ভক্ষণে শীর্ষে উঠে এসেছে। এমনকি দৈনিক মাছ খাওয়ার তালিকাতেও পিছিয়ে বাংলা।
মাছ খওয়ায় কোন রাজ্য কত নম্বর স্থানে?
এক নজরে মাছ খাওয়ার নিরিখে রাজ্যগুলির তালিকা:
- ত্রিপুরা — ৯৯.৩৫%
- মণিপুর — ৯৯.২৫%
- অসম — ৯৯.১০%
- অরুণাচল প্রদেশ — ৯৯.০৫%
- নাগাল্যান্ড — ৯৮.৮৫%
- পশ্চিমবঙ্গ — ৯৮.৬০%
- মেঘালয় — ৯৮.৫০%
- কেরল — ৯৭.৩৫%
- মিজোরাম — ৯৬.৯৫%
- গোয়া — ৯৫.৪৫%


