Aaj India Desk, কলকাতা : হলদিয়ার মঞ্চে নরেন্দ্র মোদীর আক্রমণের ঝড় তোলা বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই অন্য মঞ্চে শুরু হয়ে গেল নতুন রাজনীতি। হেলিকপ্টারে চেপে প্রচার, বাবরি মসজিদ নির্মাণে এত টাকা খরচ, এর উৎস নিয়ে জল্পনা ছিলই। এবার মুসলিম ভোট প্রভাবিত করতে হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) কোটি টাকার ‘ডিল’ এর পর্দাফাঁস করে বিজেপি ও কবীরকে একযোগে শূলে চড়ালো তৃনমূল।
কী দেখা যায় ভিডিওতে ?
তৃনমূলের তরফে প্রকাশিত একটি ভাইরাল ভিডিওতে (Aaj India ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি) হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) বলতে শোনা যায়, মুসলিম ভোট প্রভাবিত করতে বিজেপির কাছে ১০০০ কোটি টাকা চেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা অগ্রিম দাবি করেছেন বলেও ভিডিওতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও, ওই ভিডিওতে বাবরি মসজিদের ইস্যুকে সামনে এনে মুসলিমদের আবেগ কাজে লাগানোর কথাও বলা হয়েছে বলে দাবি শাসকদলের।
পাশাপাশি ভিডিওতে এও শোনা যায় যে হুমায়ুন প্রথমে প্রকাশ্যে বিজেপির সমালোচনা করবেন যাতে কেউ সন্দেহ না করে। তৃণমূলের অভিযোগ, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-র সঙ্গে যোগাযোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে ভিডিওতে। পাশাপাশি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
বিভাজনের রাজনীতির প্রশ্নে সরব তৃণমূল
প্রেস কনফারেন্সে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, “মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতি বিক্রি করা হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা চাওয়া হচ্ছে এই কাজের জন্য। আমরা কি গরু-ছাগল, না কি বোধবুদ্ধিহীন?” তিনি আরও বলেন, মানুষের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি রয়েছে এবং এই ধরনের ঘটনায় তারা যথাযথ জবাব দেবে। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) করে নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে। তাদের দাবি, শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে এই ধরনের কার্যকলাপ পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
হুমায়ুন কবীরের পাল্টা দাবি
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) এই ভিডিওকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের তৈরি AI-নির্ভর ভিডিও। তিনি বলেন, “সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে ২০০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করব।”
জেতার জন্য মরিয়া বিজেপি এবং হুমায়ুন কবীরের মধ্যে কথিত এই ‘ডিল’ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী ভোটে সুবিধা পেতে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তারের এই প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। যদিও হুমায়ুন কবীর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনে জয়ের জন্য কতটা দূর যেতে প্রস্তুত রাজনৈতিক শক্তিগুলি, এবং এই ধরনের অভিযোগ ভোটারদের আস্থায় কতটা প্রভাব ফেলবে? ধর্মকে বারবার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। নির্বাচনের সময় ধর্মীয় আবেগকে সামনে এনে ভোটের সমীকরণ বদলানোর এই চেষ্টা সমাজে ক্রমশ বিভাজন ও অবিশ্বাস বাড়িয়ে চলছে। এই ভিডিও থেকে এটুকু বলা যায় যে আজ সত্যিই বাংলার ভোটের লড়াই উন্নয়ন ও নীতির প্রশ্ন থেকে সরে গিয়ে পরিচয়ভিত্তিক মেরুকরণেই আটকে পড়েছে। এবার জনগণ এই বিষয়ে সচেতন পদক্ষেপ নেবেন নাকি ধর্মীয় জালে জড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলির বাঁশির সুরেই এগোবেন সেটাই দেখার।


