Aaj India Desk, কলকাতা : এক সময় রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে ফ্রেম, কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই নবীন বিশ্বাসের (Nabin Biswas) ছবিই উল্টো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যাঁদের ঘর একদিন রাজনৈতিক বার্তার মঞ্চ হয়েছিল, তাঁদের নামই এখন ভোটার তালিকা থেকে উধাও। ঘটনাটি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি, নাকি সময়ের নির্মম ব্যঙ্গ সেই জবাবই খুঁজছে রাজ্য রাজনীতি।
কে এই নবীন বিশ্বাস ?
নবীন বিশ্বাস (Nabin Biswas) ও তাঁর স্ত্রী সূচন্দ্রা বিশ্বাস মতুয়া সম্প্রদায়ের সদস্য এবং কলকাতার নিউটাউনের বাসিন্দা। ২০২০-২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা তাঁর বাড়িতে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার পর জানা যায় নবীন বিশ্বাস সহ তাঁর পাড়া প্রতিবেশী মিলিয়ে প্রায় ৬০০ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
নবীন বিশ্বাস (Nabin Biswas) জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল। হঠাৎ করে নাম বাদ পড়ায় এবং SIR শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। কিভাবে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন সেই বিষয়েও সঠিক তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বহু বিরোধীদের কটাক্ষ, শাহরা নিশ্চই রোহিঙ্গাদের বাড়িতে ভাত খাননি, তবে এই নবীন বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের নাম কাটা গেলো কেনো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
SIR এর নাটকে বাদ বৈধ ভোটার
তবে এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। একাধিক এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ ভোটার তালিকায় স্থান পাননি। SIR এর গণহত্যায় নাম গিয়েছে প্রায় ৩ লাখ মতুয়ার। শুধু মতুয়া নয়, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে বহু বৈধ ভোটারদের নাম। বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ উঠছে, একসঙ্গে বহু নাম, বিশেষত নির্দিষ্ট পদবি যেমন ‘দাস’ বা ‘সিংহ’, এবং সংখ্যালঘুরা তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা স্পষ্টত একটি ‘প্যাটার্ন’ হিসেবে উঠে আসছে।
নীরব ঘাতক
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও সামনে না আসায় সন্দেহ আরও বাড়ছে। প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি থাকলেও কিসের ভিত্তিতে নাম বাদ গেল তা আজও জানাতে পারেনি কমিশন। সাধারণভাবে SIR প্রক্রিয়ায় মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলা হলেও, একাধিক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ প্রশাসনিক ত্রুটি, তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতি ও রাজনৈতিক স্বার্থের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
শেষ পর্যন্ত এই SIR এর নাটকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কারা তা নিয়ে আর সন্দেহ নেই। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে সাধারণ ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে যার তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তির ওপর। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই প্রতিটি বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অথচ রাজনৈতিক তরজার মাঝে যেন সাধারণ মানুষের অধিকারই ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি কমিশনের নীরবতায় এই প্রহসনের নির্বাচন তালিকা প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে।


