Aaj India Desk,মালদহ : রাতুয়া সরকারি হাসপাতালের চিত্র দেখে যে কেউ অবাক হয়ে যাবে। হাসপাতালের ভিতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে অপর্যাপ্ত বেড, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগী। বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া গেলেও, বাস্তবে রোগীরা যে বিপদের মুখোমুখি, তা কোনো রিপোর্টের খাতায় ঢেকে যায় না। বেডের ঘাটতি, পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য মেশিনের অভাব, ডাক্তার এবং স্টাফদের সংখ্যা সীমিত।রোগীরা এখন হাসপাতালের বাইরে বসে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করছে, যেন জীবন রক্ষা এখন একটি প্রতীক্ষার খেলা। রাতুয়া সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড নেই। অনেকেই হাসপাতালের ভিতরে ঢুকলেও বেড না পাওয়ায় বাইরে বসে থাকতে বাধ্য। কেও কেও হাতের সেলাইন নিয়ে হাসপাতালের বাইরেই পরিষেবা নিচ্ছে। এই দৃশ্য যে কোনো সাধারণ মানুষের জন্য হৃদয়বিদারক। বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া গেলেও, রোগীর জীবনের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এটাই স্বাস্থ্যব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন অনেকে ।
বেডের অভাব শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, মানসিক চাপও সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে থাকা রোগীরা প্রায়ই হতাশা, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে। শিশু, বৃদ্ধ এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিপজ্জনক।সরকারি হাসপাতাল গুলোতে সব থেকে বড় সমস্যা হলো ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর সেবার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। যারা আছেন, তারা রোগীর চাপ সামলাতে সক্ষম নয়। এর ফলে রোগীর সঠিক চিকিৎসা প্রায়শই বিলম্বিত হচ্ছে। পাশাপশি স্টাফদের ব্যবহার প্রায়ই উদাসীন বা অসম্মানজনক। রোগীরা অভিযোগ করছে যে কখনও তারা তাদের সমস্যার কথা বলার চেষ্টা করলেও, স্টাফরা উদাসীনভাবে তাকিয়ে থাকে বা অমার্জিত আচরণ করে। এই উদাসীনতা শুধু রোগীর মানসিক অবস্থা খারাপ করছে না, বরং চিকিৎসার কার্যকারিতাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
রাতুয়া সরকারি হাসপাতালে উন্নত যন্ত্রপাতির অভাবও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে । রোগীর সঠিক এবং সময়মতো নির্ণয়ের জন্য মেশিনের প্রয়োজন,। রুটিন পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে শুরু করে জরুরি অবস্থা পর্যন্ত সবকিছুই বিলম্বিত হচ্ছে।যন্ত্রপাতি না থাকায় রোগীর রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না অনেক সময় । এর ফলে ভুল চিকিৎসা, বিলম্বিত চিকিৎসা এবং রোগের অবনতির মত বিভিন্ন দুর্ঘটনার মুখে পরতে হচ্ছে। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, যা বিনামূল্যে চিকিৎসার উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে।
একটি সরকারি হাসপাতালের মৌলিক চাহিদাই হলো পরিচ্ছন্নতা । কিন্তু রাতুয়া সরকারি হাসপাতালের অবস্থা বিপরীত , তবে এই ঘটনা যদিও সম্পূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের ই। হাত ধোয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নোংরা। রোগীদের বসার জায়গা পরিষ্কার নয়। এই অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা রোগীর স্বাস্থ্যকে আরও বিপন্ন করছে।
যেখানে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে হাসপাতাল খোলা রাখা কেন? বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া গেলেও, নিরাপদ এবং কার্যকর চিকিৎসা না দেওয়া এ কি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়? নাকি কেবল কাগজের খাতায় সংখ্যা পূরণের প্রচেষ্টা? এমনটাই দাবি করেছে একাংশ ।বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ডাক্তারদের অভাব, অপর্যাপ্ত বেড, যন্ত্রপাতির ঘাটতি, পরিচ্ছন্নতার অভাব সব মিলিয়ে রোগীরা কেবল রিপোর্টের শিকার। বাস্তবে জীবন ঝুঁকির মধ্যে। হাসপাতাল খোলা থাকা মানে কি জনগণের সেবা, নাকি প্রশাসনের পরিসংখ্যান দেখানোর কৌশল? ” বেড নেই। বাইরে বসে সেলাইন নিতে হচ্ছে। ডাক্তার দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্টাফরা চিৎকার করে কথা বলছে, কেউ সাহায্য করছে না। বিনামূল্যে চিকিৎসা মানে কি এটা?” অভিযোগ গুলো এখন খুবই সাধারণ হয়ে উঠেছে , কারণ এই চিত্র কম বেশি সব সরকারি হাসপাতালেই। এই সমস্ত ঘটনাই প্রমাণ করছে যে, বিনামূল্যে চিকিৎসা মানে নিরাপদ চিকিৎসা নয়।
রাতুয়া সরকারি হাসপাতালের এই চিত্র শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়। এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকটের প্রতিফলন। পরিকাঠামোর ঘাটতি, ডাক্তার ও স্টাফের অভাব, যন্ত্রপাতির অভাব, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা সব মিলিয়ে রোগীরা কেবল কাগজে রিপোর্টের শিকার, বাস্তবে জীবন ঝুঁকির মধ্যে।
সরকারি হাসপাতাল খোলা রাখার উদ্দেশ্য কি জনসেবা, নাকি কেবল সংখ্যা পূরণের খাতায় রিপোর্ট ঠিক রাখা? যদি পরিষেবা দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে এমন হাসপাতাল খোলা রাখার অর্থ কি জনগণের প্রতি অবহেলা নয়?স্বাস্থ্যখাতকে শুধুমাত্র কাগজে সাজানো হয়েছে। রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে, অথচ প্রশাসনের দৃষ্টি কেবল পরিসংখ্যানে এবং রিপোর্টে। বিনামূল্যে চিকিৎসা মানে যদি জীবনের নিরাপত্তা না দেয়, তাহলে এই সেবার অর্থ কোথায়? এই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে ।
রাতুয়া সরকারি হাসপাতালের চিত্র স্পষ্টভাবে দেখায় যে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শুধু কাগজের খাতার জন্যই চলছে, রোগীর জীবন সুরক্ষা এখন দ্বিতীয়। বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া গেলেও, বাস্তবে রোগীরা বিপদের মুখে। স্বাস্থ্যখাতের গাফিলতি, ডাক্তার ও স্টাফের উদাসীনতা, বেড এবং যন্ত্রপাতির অভাব সব মিলিয়ে এটি জনস্বার্থের প্রতি প্রশাসনের উদাসীনতার চরম প্রতীক।সরকারি হাসপাতাল খোলা থাকলেও, রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে। এটা স্বাস্থ্যখাতের ব্যর্থতা, নাকি কেবল হিসাবের খাতায় গাফিলতি এড়ানোর চেষ্টা? রাতুয়া হাসপাতালের এই চিত্র যেন আমাদের দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আয়না, যেখানে রোগীর জীবন তুচ্ছ হয়ে পড়েছে।নির্বাচনের আগে কি কেউ দেখবে হাসপাতালের বাইরে বসে থাকা রোগীর চিত্র, নাকি ভোটের ধুমধাম শুরু হতেই সমস্ত গাফিলতি ধুলোয় মিলিয়ে যাবে?


