Aaj lndia Desk,কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা প্রচারকের তালিকা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), সুব্রত বক্সীর মতো শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি তালিকায় জায়গা পেয়েছেন একাধিক অভিনেতা-থেকে-নেতা হওয়া মুখ।
এই তালিকা সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে রাজনীতির ময়দানে কি এখন অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জনপ্রিয়তা? তারকা ইমেজ কি ভোটের সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে? বিশেষ করে, যাঁরা নিজেরাও এই নির্বাচনে প্রার্থী, তাঁদেরই আবার প্রচারের মুখ করা এতে কি প্রশাসনিক দায়িত্বের থেকে প্রচারকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?বিরোধীদের কটাক্ষ, “এটা কি রাজনৈতিক লড়াই, না কি গ্ল্যামার শো?” তাদের দাবি, রাজনীতি ক্রমশ সেলিব্রিটি নির্ভর হয়ে উঠছে, যেখানে জনসংযোগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে মুখের পরিচিতি।
অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, জনপ্রিয় মুখ মানেই মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছনোর সুযোগ। ফলে অভিনেতা -নেতাদের মাঠে নামানো কৌশলগত সিদ্ধান্ত।তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই স্টার পাওয়ার কি সত্যিই ভোটে প্রভাব ফেলবে, নাকি তা শুধুই প্রচারের আলোয় সীমাবদ্ধ থাকবে?
বুধবার নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য তারকা প্রচারকদের তালিকা জমা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই তালিকায় একাধিক চেনা ও চর্চিত নাম থাকায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন কোয়েল মল্লিক, নুসরত জাহান, অনুব্রত মণ্ডল, প্রতীক উর রহমানের মতো পরিচিত মুখ। কোয়েল এখন রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, আর প্রতীক উর রহমান সম্প্রতি সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছেন। অনুব্রত মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী নাম।তবে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছেন নুসরত জাহান। বসিরহাটের প্রাক্তন সাংসদকে গত লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়নি, পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মকাণ্ডেও তাঁকে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি। সেই নুসরতকেই এবার দ্বিতীয় দফার ভোটে তারকা প্রচারক হিসেবে সামনে আনছে তৃণমূল যা নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে।
এই তালিকায় শুধু তারকা মুখই নয়, জায়গা পেয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতাও। ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শশী পাঁজা, অরূপ বিশ্বাস, বীরবাহা হাঁসদা, পার্থ ভৌমিক, সায়নী ঘোষ ও মমতা ঠাকুরের মতো নেতাদের নামও রয়েছে সেই তালিকায়। অর্থাৎ দলের এই শক্তিশালী লাইনআপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, দ্বিতীয় দফার ভোটে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না তৃণমূল। এই তালিকায় থাকা অনেকেই আবার নিজ নিজ কেন্দ্রে প্রার্থী অর্থাৎ, একদিকে নিজের ভোটের লড়াই, অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে প্রচারের দায়িত্ব দ্বৈত ভূমিকায় নামতে চলেছেন তাঁরা।
তারকা তালিকায় আরও রয়েছে একঝাঁক পরিচিত সেলিব্রেটি মুখ দেব, জুন মালিয়া, রাজ চক্রবর্তী, অদিতি মুন্সী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান, বাবুল সুপ্রিয়। তবে এঁরা শুধুই গ্ল্যামার জগতের প্রতিনিধি নন, সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। কেউ লোকসভার সাংসদ, কেউ রাজ্যসভার সদস্য, আবার কেউ বিদায়ী বিধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন।তালিকার ভেতরে নজরকাড়া বিষয় এই সেলিব্রেটি নেতাদের মধ্যেই রয়েছেন এমন মুখ, যারা এবার সরাসরি নির্বাচনের ময়দানেও নেমেছেন।বিশেষ করে রাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সীর নাম সেই তালিকায় আলাদা করে চোখে পড়ার মতো।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের এই তারকা প্রচারক তালিকা যেন এক মিশ্র সমীকরণ গ্ল্যামার, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনী কৌশলের এক যুগলবন্দি, যা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।


