Aaj India Desk, শিলিগুড়ি: নকশালবাড়ি (Naxalbari) নামটা শুনলে আপনার কী মনে পড়ে? কোনও সিনেমার গল্প, না কি ইতিহাসের কোনও অধ্যায়? অনেকেই হয়তো ১৯৬৭ সালের আন্দোলনের কথা ভাবেন। কিন্তু এবার এই জায়গাটা অন্য কারণে খবরের শিরোনামে। দিনমজুরের মেয়ে সঞ্জিতা ওরাওঁ (Sanchita Orao) নিজের সাফল্যে দেশের খেলাধুলার মানচিত্রে তুলে ধরেছেন নকশালবাড়ির নাম।
ছত্তিশগড়ে হওয়া ‘খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস’-এ ১০ হাজার মিটার দৌড়ে সোনার পদক জিতেছেন সঞ্জিতা। এই প্রতিযোগিতা প্রথমবার আয়োজন করেছে কেন্দ্র সরকার, বিশেষভাবে আদিবাসী ক্রীড়াবিদদের জন্য। দেশজুড়ে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ৩ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় মোট ৭টি খেলা ছিল। আর সেখানেই ১০ হাজার মিটার দৌড়ে সোনার পদক জিতলেন সঞ্জিতা। মাত্র ৪০ মিনিট ২১.৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার সেরা হয়েছেন সঞ্জিতা।
সঞ্জিতা খুবই সাধারণ পরিবার থেকে বড় হয়েছে। বাবা বিজয় ওরাওঁ দিনমজুর, আর মা রিতা ওরাওঁ গৃহবধূ। সংসারে অভাব থাকলেও সঞ্জিতা হাল ছাড়েননি। কঠোর পরিশ্রম করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। হাতিঘিষা হাইস্কুলের শিক্ষক সুজয় ঘোষ রায় প্রথম তাঁর প্রতিভা চিনে তাঁকে সুযোগ করে দেন। শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের হাতিঘিষায় অস্থায়ী মাঠেই নিয়মিত অনুশীলন করতেন তিনি। দিনে দু’বার প্র্যাকটিস করতেন। বর্ষার সময় চা বাগানেই দৌড়ানোর অভ্যাস চালিয়ে যেতেন। এলাকায় ভালো ট্র্যাক না থাকলেও থেমে থাকেননি। অনেক কষ্ট করে নিজেকে তৈরি করেছেন সঞ্জিতা।
এবার জাতীয় মঞ্চে নিজের পরিচয় তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে খুশি পরিবার থেকে শুরু করে গোটা রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “নকশালবাড়ির আদিবাসী চা-শ্রমিক পরিবারের মেয়ে সঞ্জিতা ওরাওঁকে ১০ হাজার মিটার দৌড়ে সোনা জয়ের জন্য অভিনন্দন ও ভালোবাসা। ওর এই সাফল্য আমাদের গর্বিত করেছে। এই জয় আরও অনেক ছেলেমেয়েকে অনুপ্রাণিত করবে। ওর সব স্বপ্ন পূরণ হোক, এই কামনা করি। প্রয়োজনে আমি ওর পাশে থাকব।”


