কলকাতা: “আমরা আর সিনেমা, সিরিয়াল, ওটিট নই, আমরা সবাই এক ছাদের তলায় এসেছি, আমরা একটা ইন্ডাস্ট্রি। রাহুল (Rahul Arunoday Banerjee) আমাদের এক করে দিয়ে গেছে”, মঙ্গলবার কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর এমনটাই বললেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। আগামীকাল থেকে শিল্পীরা কাজে ফিরবেন বলে জানান প্রসেনজিৎ।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাহুল আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গেছে”। এদিন শিল্পীদের নিরাপত্তা, কলাকুশলীদের ইন্সিওরেন্সের পাশাপাশি ‘নিষিদ্ধ শিল্পীদের ফেরানোর দাবী তোলেন অভিনেতা দেব। তিনি বলেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়য়ের সঙ্গে এই বিষয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের বৈঠক হবে।
দেব বলেন, “আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন হিসেবে আমরা সাধারণত ব্যান বা অসহযোগিতার সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকি। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেছে, সেটিকে অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। তাই যে প্রযোজনা সংস্থার তত্ত্বাবধানে শুটিং চলাকালীন এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাদের সঙ্গে আমরা আপাতত অসহযোগিতার পথেই হাঁটব। যতদিন না তারা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারে।” এই আন্দোলনের মাধ্যমে টলিউডের “ব্যান কালচার”-এর বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিৎ বলেন দেব। তাঁর সংযোজন, “কাজ না করতে পারাও একটা কষ্ট। আমার মনে হয়, যাদের কাজ নেই, এই কষ্টটা তাঁরাই বুঝতে পারবেন একমাত্র।”
উল্লেখ্য, এর আগেও ‘অলিখিত নিষিদ্ধ’ অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের (Anirban Bhattacharya) হয়ে ক্ষমা চান দেব। জানুয়ারি মাসে অনির্বাণকে ইন্ডাস্ট্রিতে ফেরাতে খোলা দরবার শুরু করেছিলেন তিনি। দেব বলেছিলেন, “আমাকে আপনি তিনবারের সাংসদ হিসেবে দেখুন, মেগাস্টার হিসেবে দেখুন, টলিউডের একজন কর্মী হিসেবে দেখুন কিংবা একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে, যেভাবেই দেখুন না কেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসসহ সকলের কাছে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চাইছি। দয়া করে ছেলেটাকে শান্তিতে বাঁচতে দিন, ওকে কাজ করার সুযোগ দিন।” স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে প্রসেনজিতের বৈঠকের পর কি ‘নিষিদ্ধ অভিনেতাদের’ কাজের সুযোগ দেওয়া হবে? যদি তাই হয়, তাহলে অনির্বাণ ভট্টাচার্য কি সিনে জগতে ফিরবেন?


