নয়াদিল্লি: রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা এবং শুল্ক যুদ্ধের আবহে ‘মেক মি হ্যাপি’ মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সোমবার তিনি দাবি করেন, তাঁকে ‘খুশি’ করতেই ভারত নিজের অবস্থান বদলেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Mlodi) জানতেন যে “তিনি সন্তুষ্ট নন” বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “চাইলে খুব দ্রুত ভারতের উপর শুল্ক বাড়ানো যেতে পারে।”
মার্কিন রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে মোদী সরকারকে ফের তুলোধোনা করল কংগ্রেস। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) বলেন, মোদী ও ট্রাম্পের (Donald Trump) মধ্যে প্রকাশ্যে উষ্ণ সম্পর্কের ছবি তুলে ধরা হলেও বাস্তবে ওয়াশিংটন দিল্লির প্রতি ‘কখনও গরম, কখনও ঠান্ডা’ নীতি অনুসরণ করেই চলেছে।
সোমবার এক্সের একটি পোস্টে রমেশ বলেন, ‘নমস্তে ট্রাম্প’ এবং ‘হাউডি মোদী’-র মতো অনুষ্ঠান, সেইসাথে জনসমক্ষে প্রশংসা ও ব্যক্তিগত উষ্ণতা বাস্তবে ভারতের জন্য যৎসামান্য সুবিধা করেছে। তিনি আরও বলেন, “হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রীর ভালো বন্ধুটি ভারতের প্রতি তার ‘কখনো গরম, কখনো ঠান্ডা’ নীতি অব্যাহত রেখেছেন। ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, তবে তিনি আবারও ভারত থেকে মার্কিন আমদানির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। সেই সব নমস্তে ট্রাম্প, হাউডি মোদী অনুষ্ঠান, (বাধ্যতামূলক) আলিঙ্গন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশংসা করে করা সেই সব সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট খুব কমই কাজে দিয়েছে।”
নরেন্দ্র মোদী (Narendra Mlodi) ও ট্রাম্পের ‘লোকদেখানো’ বন্ধুত্ব নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারিও। তিনি বলেন, ভারত সবসময় খরচের কথা বিবেচনা করে জ্বালানি সংগ্রহ করেছে এবং রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কেনার সার্বভৌম অধিকার ভারতের রয়েছে। তিওয়ারি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী মোদীর দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে।”


