Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে আনা অপসারণের প্রস্তাব সোমবার খারিজ করে দিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন। দেশজুড়ে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে আচরণ নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই প্রস্তাব আনা হয়েছিল।
সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে এমন প্রস্তাব আনা হয়। প্রস্তাবে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছিলেন।
অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা
১০ পাতার নোটিসে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ছিল পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, ভোটারদের ব্যাপকভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব। বিরোধীদের দাবি, SIR প্রক্রিয়া পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা হয়েছে এবং তা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতে ব্যবহার করা হয়েছে। বিহারের পূর্ববর্তী নির্বাচন এবং পশ্চিমবঙ্গসহ আসন্ন ভোটে SIR প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। নোটিসে সিইসির “প্রমাণিত অসদাচরণ” এবং “আংশিক আচরণ”-এর উল্লেখ ছিল।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র
তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগেই জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে এই প্রস্তাব আনা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই SIR ইস্যুতে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী “ভোট চুরি” ইস্যুতে প্রচার চালাচ্ছেন। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।
বিজেপির পাল্টা অবস্থান
বিজেপি নেতৃত্ব জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে অযথা প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। তাদের মতে, বিরোধী দলগুলি নির্বাচনী লড়াইয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পরিবর্তে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। বিজেপির বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা এবং তার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের প্রস্তাব পাশ করাতে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তবে চেয়ারম্যানের পর্যায়েই প্রস্তাবটি খারিজ হওয়ায় তা আর সংসদে এগোয়নি।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হল যে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন, অন্যদিকে সেই অভিযোগকে খারিজ করে শাসক পক্ষের পাল্টা অবস্থান—দুইয়ের সংঘাতে বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে। তবে প্রস্তাব খারিজ হওয়ায় আপাতত বিষয়টি সাংবিধানিক স্তরে থেমে গেলেও, রাজনৈতিক পরিসরে এই ইস্যু যে আগামী দিনে আরও জোরদারভাবে ফিরে আসবে, তা বলেই মনে করা হচ্ছে।


