Aaj India Desk, নদিয়া : ভোটের আগে রাজ্য জুড়ে একের পর এক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে জেগেছে বিস্ময়। এর মধ্যেই সোমবার আরও একটি অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকলেন নদিয়ার (Nadia) কৃষ্ণনগরবাসী।
মিছিলেই থমকাল গতি ?
সোমবার ছিল প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ৩টা পর্যন্ত। এর আগে নদিয়ার (Nadia) কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড়ে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে একাধিক প্রার্থীর সমর্থনে বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ঘুরে এগোতে থাকলে বহু জায়গায় তৈরি হয় যানজট। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে শহরের একাধিক এলাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
ডেডলাইনের আগে রাস্তায় দৌড়
এই ভিড় ও জ্যামের মধ্যেই পিছিয়ে পড়েন কৃষ্ণনগর দক্ষিণের প্রার্থী সাধন ঘোষ এবং চাপড়ার প্রার্থী সৈকত সরকার। সময়সীমা ঘনিয়ে আসতেই শেষ পর্যন্ত রাস্তা ধরেই দৌড় শুরু করেন তাঁরা। পথচারীরা থমকে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখেন। নির্বাচনী মিছিলে হাঁটার পর প্রার্থীদের দৌড়ের ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
অবশেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নদিয়ার (Nadia) জেলা শাসকের দফতরে পৌঁছে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে নমিনেশন জমা দিতে সক্ষম হন দুই প্রার্থী। অন্য প্রার্থীরা সময়মতো পৌঁছলেও এই দুই প্রার্থীর জন্য সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়াই হয়ে ওঠে মূল চ্যালেঞ্জ।
উৎসব নাকি প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এল নির্বাচনী মিছিলের আকার, তার প্রভাব এবং বাস্তবিক কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে মিছিল দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সেই মিছিল যখন শহরের স্বাভাবিক গতি থামিয়ে দেয়, প্রশাসনিক কাজকর্মে চাপ তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদেরই নির্ধারিত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তার কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়।
সমর্থনের বার্তা দিতে গিয়ে কখনও কখনও সেই সমর্থনের ভিড়ই যে ‘বাধা’ হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনায় তা স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শক্তি প্রদর্শনের এই প্রচলিত ধরণে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, যেখানে যানজট ও জনসমাগম দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, সেখানে বড় মিছিলের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার বলেই মত উঠে আসছে।


