Aaj India Desk, মালদহ : মালদহের চাঁচলে মিছিল শেষে ভাষণে একাধিক রাজনৈতিক বার্তা একসঙ্গে তুলে ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee)। ভোটভাগ রুখতে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন মালদহের ভোটারদের।
ভোটভাগই প্রধান উদ্বেগ ?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) তাঁর ভাষণে সরাসরি ভোট বিভাজনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, অতীতে বিরোধী ভোট ভাগ হওয়ায় তৃণমূল প্রত্যাশিত ফল পায়নি। তাঁর কথায়, “ভোট ভাগ না হলে ফল ভিন্ন হতে পারত।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে ভোটের বিভাজনকে দায়ী করেন এবং ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন যে এককভাবে তৃণমূলকে সমর্থন করলেই রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি সম্ভব।
কয়টি আসনে জয়ের ডাক ?
মালদহ জেলায় মোট ১২টি বিধানসভা আসন রয়েছে, যা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। এই সব আসন জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, “মালদহে ১২টি আসন জিততে পারলে রাজ্যে মোট আসন সংখ্যা ২৫০-র বেশি হবে।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, জেলা ভিত্তিক সর্বোচ্চ ফল অর্জন করে রাজ্যজুড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে দল।
অভিষেকের বক্তব্যে লোকসভা নির্বাচনের ফলও উঠে আসে। তিনি বলেন, আরও কয়েকটি আসন পেলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কিছু সিদ্ধান্ত রোধ করা সম্ভব হত। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ভবিষ্যতে লোকসভা নির্বাচনে আসন সংখ্যা বাড়ানোই তৃণমূলের বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য। সংসদে সংখ্যাবৃদ্ধির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নীতিতে প্রভাব বিস্তারের কৌশলই এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বিদেশনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানের হুমকি প্রসঙ্গে কেন্দ্রের অবস্থান কেন স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খায়াজা আসিফের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
অভিষেকের বক্তব্যে ভোটভাগ রুখে বিরোধী ভোটকে একমুখী করার চেষ্টা স্পষ্ট। মালদহের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সর্বোচ্চ আসন জয়ের মাধ্যমে রাজ্যে শক্ত ভিত তৈরি করতে বদ্ধপরিকর তৃনমূল। পাশাপাশি লোকসভায় আসন বাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখতেই এই মন্তব্য কিনা তা নিয়েও চলছে জল্পনা। সব মিলিয়ে, এই ভাষণ শুধুমাত্র নির্বাচনী আহ্বান নয়, বরং রাজ্য ও জাতীয় উভয় স্তরেই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রণকৌশলের ইঙ্গিত বহন করছে।


