নদিয়া: বেতন নেন না, চায়ের দাম নিজে মেটান। ছবি এঁকে, কবিতা লিখে, গান লিখে, সুর দিয়ে যেটুকু উপার্জন করেন, তাতেই তাঁর চলে যায়। ক্ষমতায় আসার আগে থেকে নিজেকে ‘বাংলার নিজের মেয়ে’ ব্র্যান্ডিং-এ তুলে ধরেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বাতানুকূল ঘরে বসে নয়, বাংলার মাটির মানুষদের সঙ্গে মিশে, তাঁদের নিয়ে, তাঁদের জন্যই নাকি তাঁর দল ‘মা-মাটি-মানুষ’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নিজেকে “ঘরের মানুষ”, সহজ-সরল, মধ্যবিত্ত জীবনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন মমতা। গত ১৫ বছর ধরে এই কথাটাই বাংলার সাধারণ মানুষের মগজে সুক্ষভাবে ঢুকিয়ে দিতে কার্যত সফল হয়েছেন তিনি। তাই হয়ত দলের গায়ে দুর্নীতি, অপরাধের দাগ থাকলেও তৃণমূল বলতে তাঁর সমর্থক সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) বোঝে।
এদিনও শান্তিপুরের সভায় নিজেকে সাধারনের একজন বলে উপস্থাপন করেন তিনি। রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি তিনি কারও মেয়ে, পিসিমা, কারও বোন আবার বৌদি। রাজনীতির বাইরে তাঁর একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে, সেই আবেগকেই তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, শান্তিপুরে মিটিং আছে শুনে অভিষেকের মা তাঁকে বলেছেন, আমার জন্য দুটো শাড়ি এনো। এই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি কি এখন বাজারে যাব? তবে ও জানে, আসলে মজা করছে। এই টুকু তো এক্সপেক্ট করতে পারে, বাড়ির বউ।”
এখানেই শেষ নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “সোনা দানা তো কিছু চায় না। নববর্ষের আগে দুটো শাড়ি চাইলে সেটা দেব না?” এরপর তাঁর নিজের শাড়িটাও শান্তিপুরের বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেইসঙ্গে জানান, তিনি তাঁর শাড়ি নিজেই ডিজাইন করেন, যা আবার অনেকে নকল করে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদিয়ার শান্তিপুর, ফুলিয়ার তাঁতশিল্পীদের কাছে তিনি নিজের ‘ঘরের মানুষ’ ইমেজটা তুলে ধরছেন। মানে, তিনি শুধু নেতা নন, একজন সাধারণ পরিবারের মানুষও।
২. আত্মনির্ভরতার বার্তা। পাশাপাশি, তিনি বিশেষ করে শান্তিপুরের শাড়ি, নিজের ডিজাইন, এবং তার জনপ্রিয়তার কথা বলেছেন। এটা স্থানীয় তাঁতশিল্প ও কারিগরদের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত যা এক ধরনের “লোকাল ব্র্যান্ডিং”। বিধানসভা ভোটের আগে ‘নিজের ঘরের মেয়ে’ আবেগে ভোট টানার রাজনৈতিক কৌশল।


