Aaj India Desk, মালদহ : সম্প্রতি মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে (Mofakkerul Islam)। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইসলামকে নিয়ে হুমায়ুন কবীরের পোস্ট ঘিরে ফের তুঙ্গে জল্পনা।
কী বললেন হুমায়ুন ?
শনিবার সমাজ মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে হুমায়ুন কবীর একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তিনি জানান, মোফাক্কারুল ইসলাম (Mofakkerul Islam) সুজাপুরের একটি শান্তিপূর্ণ জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন এবং বিচারকদের আটকে পড়ার ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিচারকদের আটকে পড়ার ঘটনা অন্যত্র প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ঘটে এবং ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসলাম প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে স্থগিত করতে সাহায্য করেছিলেন।
যাচাইহীন তথ্যের অভিযোগ
তবে পোস্টটি হুমায়ুন কবীরের প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা হলেও, পোস্টটি আদৌ হুমায়ুন কবীরের নিজস্ব বক্তব্য, নাকি অন্য কারও লেখা কপি, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। একই সঙ্গে, পোস্টে করা একাধিক দাবির সত্যতা নিয়েও উঠছে সন্দেহ।একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর দাবি, একই ধরনের ভাষা ও তথ্য আগেই অন্য একটি প্রোফাইলে দেখা গিয়েছিল। ফলে, এটি যাচাইহীন কপি-পেস্ট করা পোস্ট হতে পারে বলেই সন্দেহ জোরদার হচ্ছে।
আসল ঘটনা কী ?
অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্র ও প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্য হুমায়ুনের এই দাবিকে পুরোপুরি খারিজ করে দেয়। তাঁদের অভিযোগ, ইসলাম বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সেখানে বক্তব্যও দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময়ও মোফাক্কারুল ইসলাম (Mofakkerul Islam) নিজেই ‘আন্দোলন চলবে’ বলে মন্তব্য করেন। এই মন্তব্য তাঁর বিক্ষোভে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয় বলেই মনে করছেন অনেকেই। যদি তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকতেন, তবে এমন মন্তব্য কেন, এই নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে, পোস্টের বর্ণনার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল কতটা তা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে।
এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাচাই না করা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা। একটি পোস্ট থেকেই জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৃত তথ্য চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


