Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে (LPG shortage) রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এবার এই গ্যাসের সঙ্কটের আঁচ পড়তে শুরু করেছে তমলুক সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্টিনেও।
ক্যান্টিনে রান্না প্রায় বন্ধের মুখে
মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মেডিক্যাল ছাত্র, ২০০ নার্সিং ছাত্রছাত্রী এবং প্রায় ৫০ জন চিকিৎসক এই ক্যান্টিনের উপর নির্ভরশীল। এই ক্যান্টিনে সাধারণত দিনে চারবার অর্থাৎ সকালের জলখাবার, দুপুরের খাবার, বিকেলের নাস্তা এবং রাতের খাবার প্রস্তুত করা হয়। তবে গ্যাসের সঙ্কটের (LPG shortage) কারণে বর্তমানে কোনওরকমে শুধু দুপুরের খাবার রান্না করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি সময় খাবারের জন্য পড়ুয়া সহ সবাইকেই বাইরের খাবারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা বাড়তি খরচ ও অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোগী পরিষেবায় বাড়তি সতর্কতা
অন্যদিকে, হাসপাতালের রোগী পরিষেবায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের জন্য প্রতিদিন তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে। যদিও ক্যান্টিনের রন্ধন কর্মীদের অভিযোগ, রোগীদের জন্য প্রতিদিন ৩ থেকে ৪টি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হলেও তা ক্যান্টিনে পৌঁছাচ্ছে না।
কাঠের চুলায় রান্না, বাড়ছে চাপ
পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যান্টিনের বাইরে অস্থায়ী ত্রিপল টাঙিয়ে কাঠের চুলায় রান্না শুরু করেছেন রাঁধুনিরা। এতে সময় বেশি লাগছে এবং পরিশ্রমও বাড়ছে। খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার অতনু সিংহ বলেন, “আমরা নিয়মিত গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।”
ক্যান্টিনে আসা এক ছাত্র, মৌ চক্রবর্তী বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে সকালের জলখাবার আর রাতের খাবার ঠিকমতো মিলছে না। বাধ্য হয়ে বাইরে খেতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।” বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রী ও চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে (LPG shortage) সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। প্রতিদিনের খাবারের নিশ্চয়তা না থাকায় ছাত্র-ছাত্রী ও চিকিৎসকদের জীবনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ তাদের আর্থিক চাপও বাড়াচ্ছে। যারা পড়াশোনা ও পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত, তাদের এই মৌলিক সমস্যায় পড়া সামগ্রিক ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে আনছে। দ্রুত সমাধান না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং তার প্রভাব পড়বে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উপরও।


