Aaj India Desk, নদিয়া : নদিয়ার কৃষ্ণনগর (Krishnanagar) হাইওয়েতে হাভেলি হোটেলের পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয় তিন মাসের এক শিশুকন্যাকে। ঘটনায় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য।
গতকাল রাত ৯টার দিকে এক টোটো চালক নবদ্বীপ থেকে ফেরার পথে কৃষ্ণনগর (Krishnanagar) হাইওয়ের ওই এলাকায় যান। প্রস্রাব করতে গিয়ে হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দ শোনেন। ঝোপের ভিতরে গিয়ে দেখেন, তিন মাসের শিশুকন্যা পড়ে রয়েছে। আশপাশে বেশ কয়েকটি কুকুর শিশুটিকে ঘিরে রেখেছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
পুলিশের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন
টোটো চালক প্রথমে কোতোয়ালি থানার পুলিশকে বিষয়টি জানালেও পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। রাত ৯টায় তাঁরা শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর পরের দিন সকালে পুলিশ সক্রিয় হয়। কোতোয়ালি থানার কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে উদ্ধার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেয়।
স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের প্রাথমিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, প্রথম খবর পাওয়ার পরও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিশুটির নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তবে থানা কর্তৃপক্ষ এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
তদন্তে জোর প্রশাসনের
উদ্ধারকৃত শিশুর গলায় তাবিজ এবং হাতে কালো সুতো বাঁধা ছিল। এ থেকে স্থানীয়রা অনুমান করছেন, শিশুটিকে হয়তো বা তার মা বাবা ছেড়ে যায়নি। অনেকের ধারণা, এটি সাধারণ পরিত্যক্ত শিশুর মতো ঘটনা নয়। উদ্ধারকারী টোটো চালকের ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য, “শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তাকে যত্নে রাখা হয়েছিল। তাই অনুমান করা হচ্ছে, পরিবার হয়তো তাকে খুঁজছে।” তবে এই বিষয়ে এখনো পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি। স্থানীয়দের অনুরোধ, শিশুটির ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথাসম্ভব অনুসন্ধান চালানো হোক। পুলিশ ও চাইল্ড লাইন কর্তৃপক্ষ এখন শিশুর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
পশ্চিমবঙ্গে পরিত্যক্ত শিশুর পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) এই শিশু উদ্ধারের ঘটনা রাজ্যে বিরল নয়। সরকারি তথ্য অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বছর কয়েকশো নবজাতক ও শিশু পরিত্যক্ত হয়। ২০২৪ সালে রাজ্যে ২০০-এর বেশি শিশু পরিত্যাগের ঘটনা NCRB তথ্যে উঠে এসেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়ে শিশু। পরিত্যক্ত শিশুর সংখ্যা কমাতে পরিবার পরিকল্পনা, মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বন এবং সামাজিক সচেতনতা জরুরি।


