Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বহরমপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্ড নং ৮ এ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তৃনমূল কংগ্রেসের নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার রাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
‘মিষ্টির প্রলোভন’ দেখিয়ে হুমকি ?
একটি ভাইরাল ভিডিওতে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) তৃনমূল কংগ্রেসের নেতা রাজু মণ্ডলকে দরজায় দরজায় গিয়ে প্রচারের সময় ভোটারদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “পদ্ম ফুলে ভোট দেওয়া যাবে না। ভোট নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে ভোট দিতে যাওয়ার দরকার নেই। আমি ছানাবড়া, রসগোল্লা বাড়িতে পাঠিয়ে দেব। আর যদি ভোট দিতেই হয়, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসকে দেবেন।” তিনি আরও বলেন যে প্রত্যেক বাড়ির ভোটের দিক নজরদারি করা হবে ক্যামেরায় এবং নোটবুকে লিখে রাখা হবে।
কমিশনের তৎপরতায় গ্রেপ্তার
নির্বাচন কমিশন ভিডিওটি দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। শুক্রবার রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন স্পষ্ট জানায় যে ভোটে কোনো ধরনের ভয় দেখানো, প্রভাবিত করা বা আইন লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না। মুর্শিদাবাদ পুলিশ এই নির্দেশ অনুসরণ করে রাজু মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। কমিশনের মতে, কোনো রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, রাজ্যে সহিংসতা ও ভয়মুক্ত পরিবেশেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাবমুক্ত রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর আস্থা রাখার পরামর্শও দেন তিনি।
বিরোধীদের কটাক্ষ
অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ঘটনাকে রাজ্যের ভোটের পরিবেশের প্রতিফলন বলে দাবি করেছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও সমাজ মাধ্যম জুড়ে এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বিরোধী দলনেতার দাবি, “ভোটারদের ভয় দেখানো, প্রলোভন দেওয়া কিংবা নজরদারির হুমকি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বড় বাধা। শাসক দল নিজেদের ভোট বাঁচাতে গনতন্ত্র বিরোধী আচরণ করে যাচ্ছে।” গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সেই স্বাধীনতাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে এই ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরে। নির্বাচন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিলেও, বারবার এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে ভোটের রাজনীতিতে কতটা সংযম রক্ষা করে শাসক দল প্রচার করবেন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


