Aaj India Desk, বর্ধমান : বর্ধমান (Burdwan) জেলা ভূমি সংস্কার দপ্তরের সামনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার জন্য দেখা যায় ব্যাপক ভিড়। অনেক পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় সকাল থেকে অফিসের সামনে জড়ো হয়েছেন নারী, বৃদ্ধ এবং শিশুসহ বহু মানুষ। নিজেদের অধিকারটুকু ফিরে পাওয়ার আশায় এই রোদ বৃষ্টি জল মাথায় নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাঁরা।
সংখ্যালঘু কেন্দ্রতে অ্যাডজুডিকেশনের হার বেশি
রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় রাজ্যের ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে এবং ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রয়েছে। তথ্য অনুসারে, সংখ্যালঘু-প্রধান বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে অ্যাডজুডিকেশনের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।একই ভাবে বর্ধমান (Burdwan) জেলার মিঠাপুকুর এলাকায় অবস্থিত ভূমি সংস্কার দপ্তরের সামনে বেশিরভাগ আবেদনকারীই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। অনেকের পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকলেও বর্তমান তালিকায় অনুপস্থিত।
কী বলছেন স্থানীয়রা ?
বামুনিয়া গ্রামের শুকুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, “আমার পরিবারের চার সদস্যের নাম নেই। ২০০২ সালের তালিকায় ছিল। তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হলে কী করব? সকালে পরিবারের সঙ্গে ফর্ম-৬ পূরণ করে জমা দিতে এসেছি।” জামালপুরের শেখ শাহাবুদ্দিন খান জানান, “পরিবারের সাত সদস্যের নাম বাদ পড়েছে। স্ত্রী ও শিশুকে নিয়ে এসেছি। কেন এই হয়রানি হচ্ছে জানি না।” ভাতারের শেখ মনিরুল বলেন, “স্ত্রীকে নিয়ে সকালে এসেছি। এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও আমাদের প্রমাণ করতে হচ্ছে যে আমরা রোহিঙ্গা নই।”
SIR প্রক্রিয়ায় রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে নেমে ৭.০৪ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যালঘু-ঘন কেন্দ্রগুলিতে সরাসরি বাদ পড়ার হার কম হলেও অ্যাডজুডিকেশনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি (গড়ে ২১% পর্যন্ত)। এতে অনেক পরিবারের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফর্ম-৬ মূলত নতুন ভোটার বা স্পষ্টভাবে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য। ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ ক্ষেত্রে আবেদনের প্রক্রিয়া আরও জটিল, যা আদালতীয় শুনানির উপর নির্ভরশীল। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বেড়েছে।
বর্ধমানের (Burdwan) এই দৃশ্য রাজ্যের অন্যান্য জেলা, বিশেষ করে সংখ্যালঘু-প্রভাবিত এলাকায় চলমান ঘটনারই প্রতিফলন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, মালদা, মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় অ্যাডজুডিকেশনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়া যদি দ্রুত নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে বড় সংখ্যক ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক সহায়তা ও সচেতনতা বাড়ানোর দাবি উঠলেও এই কয়েক দিনেও আদৌ এত পরিমাণ ভোটারদের নথি সঠিকভাবে দেখে পুনরায় তালিকা প্রকাশ করা হবে কিনা , তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ।


