কলকাতা: ভোটের মুখে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই আবহেই বিজেপি শাসিত রাজ্য রাজস্থানে বৃহস্পতিবার খুন হয়েছেন মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের ভিঙ্গোল গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক শেখ সাহান। জয়পুরে ওই পরিযায়ী শ্রমিকের বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাঁকে খুন করে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বস্তাবন্দী করে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয় দেহ। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার জানায়, ভোটের জন্য বাড়ি আসছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরা হয় না। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্যই হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী পরিবারের।
তোপ দাগলেন মমতা
এই ঘটনায় হরিরামপুরের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ফের তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিন তিনি ফের বলেন, “ভোটের জন্য পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি আসতে চাইছেন। কিন্তু টিকিট পাচ্ছেন না। পথে তাদের খুন করা হচ্ছে। রাজস্থানে মালদার পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করা হয়েছে।” মমতার এই বক্তব্যে পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের দাবী, মালদার কালিয়াচক, মোথাবাড়ির ঘটনা থেকে মানুষের মন ঘোরাতে ফের পরিযায়ী অস্ত্রে শাণ দিচ্ছেন মমতা।
কি হয়েছিল মোথাবাড়ি, কালিয়াচকে?
বস্তুত, বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদার একাধিক এলাকা। যার মধ্যে ছিল মোথাবাড়ি, সুজাপুর, কালিয়াচক। কালিয়াচকের বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দীর্ঘ ৮ ঘন্টা ৩ জন মহিলা সহ মত ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে আটক করে রাখা হয়। তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাজ্য প্রশাসনকে তুলোধোনা করে এনআইে বা সিবিআই-এর মত কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সকালে বাগদডোগড়া বিমানবন্সদর থেকে আটক হন ঘটনার মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলাম। শুক্রবারই মালদার মোথাবাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে এনআইএ।


