Aaj lndia Desk, সুরভী কুন্ডু: একটা মায়ের কান্না,যেখানে থাকার কথা ছিল ন্যায়ের দাবি, সেখানে কি ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ছে ভোটের অঙ্ক? সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social media)ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে অভয়ার মা বারবার বলছেন”আমার মেয়ে বিচার পায়নি”, “ডেড বডি পাইনি”, “শেষকৃত্য করতে পারিনি” এই সব কথাগুলো নিঃসন্দেহে হৃদয়বিদারক। কিন্তু প্রশ্নটা এখন অন্য জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে এই কান্না কি শুধুই বিচার চাওয়ার, নাকি এর আড়ালে তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক মঞ্চ?
যে পরিবার একসময় সরব হয়েছিল “আমার মেয়েকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না” বলে, আজ সেই পরিবারই কি রাজনৈতিক ময়দানে নেমে পড়েছে? এই প্রশ্ন এখন জনমানসে ঘুরপাক খাচ্ছে।সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী(Subendu Adhikari)-র প্রসঙ্গে। যিনি একসময় আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই নেতার দলেই যদি আজ অভয়ার মা নাম লেখান, তাহলে কি এটা নিছকই কাকতালীয়? নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল? বিরোধীদের দাবি এটা “সহানুভূতির ভোটব্যাঙ্ক” তৈরির কৌশল।
পানিহাটির রাস্তাঘাটে এখন একটাই আলোচনা “সহানুভূতির ঢেউয়ে জিতে যাবেন তিনি।” কিন্তু এখানেই উঠছে আরও বড় প্রশ্ন সহানুভূতি কি এখন ভোটে রূপান্তরিত হওয়ার নতুন ফর্মুলা?ঘটনাটা ক্রমশ যেন বাংলা সিরিয়ালের স্ক্রিপ্টকেও হার মানাচ্ছে। যেখানে সংলাপ থাকে “সিস্টেমে ঢুকে সিস্টেমকে বদলাব” ঠিক তেমনই কি ভাবছেন অভয়ার মা? কিন্তু বাস্তব কি এতটা সহজ? সিস্টেমে ঢুকলেই কি বিচার মেলে? নাকি সিস্টেমই মানুষকে বদলে দেয়?
আরও গভীর প্রশ্ন হলো যদি সত্যিই বিচার পেতে রাজনীতিতে নামতে হয়, তাহলে কি সাধারণ মানুষের জন্য বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ? তাহলে কি বার্তা যাচ্ছে “রাজনীতি করো, তবেই ন্যায় পাবে”?এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এতে করে প্রতিটি ট্র্যাজেডি, প্রতিটি নির্যাতনের ঘটনা একসময় ভোটের অঙ্কে পরিণত হবে। আর তখন “বিচার” শব্দটা শুধু বক্তৃতার মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকবে।এখন মূল প্রশ্ন একটাই এই লড়াই কি সত্যিই ন্যায়ের জন্য, নাকি ভোটের জন্য?
অভয়া সুবিচার পাক, এটা সবাই চায়। কিন্তু সেই বিচার যদি রাজনীতির সিঁড়ি হয়ে যায়, তাহলে সেটা শুধু এক পরিবারের নয়, গোটা সমাজের পরাজয়।কারণ বিচার কখনও ভোটের উপর নির্ভর করতে পারে না অথবা করা উচিত নয়।
“জাস্টিস” থেকে “পলিটিক্স” রাত জাগা আন্দোলন কি তবে ভোটের পোস্টারে ঠাঁই পেল?তাহলে কি সত্যিই সব বৃথা গেল?রাত জেগে মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো, হাসপাতালের করিডরে প্রতিবাদে সরব হওয়া সুশিক্ষিত ডাক্তাররা, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ধ্বনিত হওয়া “জাস্টিস ফর আরজি কর”সবটাই কি শেষমেশ ভোটের অঙ্কে গিলে খেল রাজনীতি?যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল এক নারীর ন্যায়বিচারের দাবিতে, তা কি আজ নেমে এসেছে প্রার্থী তালিকার লাইনে? এই প্রশ্নটা এখন আর ফিসফিস করে নয়, সরাসরি ধাক্কা দিচ্ছে বিবেকে।আরও নির্মম প্রশ্ন একটা মৃত্যু, একটা নির্যাতন এটাই কি এখন রাজনৈতিক এন্ট্রি পাস?
রাজনীতি করা নিঃসন্দেহে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। গণতন্ত্র সেই অধিকার দেয়। কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই শেষ হয়ে যায় না বরং এখান থেকেই শুরু হয় আসল বিতর্ক।যে মানুষগুলো কোনও দল, কোনও পতাকা না দেখে রাস্তায় নেমেছিল কেউ তৃণমূল, কেউ বিজেপি, কেউ বাম আসলে সবাই একটাই পরিচয়ে দাঁড়িয়েছিল, “মানুষ” হিসেবে। “জাস্টিস ফর আরজি কর” তখন কোনও দলের স্লোগান ছিল না, ছিল একটা সম্মিলিত ক্ষোভ, একটা ন্যায়ের দাবি।এখন যদি সেই লড়াইয়ের মুখ হঠাৎ কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মঞ্চে উঠে দাঁড়ায়, তাহলে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক তাহলে কি সেই নির্দলীয় প্রতিবাদকে ব্যবহার করা হল?
যে বিরোধী দলের কর্মী নিজের দলীয় পরিচয় পাশে সরিয়ে রেখে সেই আন্দোলনে সামিল হয়েছিল, তার অনুভূতির মূল্য কোথায়? সে কি আজ নিজেকে প্রতারিত মনে করবে না?কারণ সে লড়েছিল “ন্যায়ের জন্য”, কিন্তু শেষ ছবিটা যদি দাঁড়ায় “দলের জন্য”, তাহলে সেই আবেগটা কি অপমানিত হয় না?এখানেই জন্ম নিচ্ছে বিতর্ক এটা কি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি জনতার আবেগের উপর দাঁড়িয়ে নেওয়া রাজনৈতিক শর্টকাট?


