Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : ভোটের উত্তপ্ত আবহে ফের রক্তাক্ত পূর্ব মেদিনীপুরের হেভিওয়েট কেন্দ্র নন্দীগ্রাম (Nandigram)। প্রায় সকাল ১০টা নাগাদ আচমকাই নন্দীগ্রামের রাস্তায় চোখে পড়ে এক ব্যক্তির অচৈতন্য দেহ। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি শক্তিপদ দাস ওরফে ফড়িং নন্দীগ্রাম (Nandigram) ব্লক ১-এর ভেকুটিয়ার শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতোই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ বাড়ির কাছেই রাস্তার ধারে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য। দ্রুত তাঁকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিচয় মিলতেই রাজনৈতিক রং
পরিবারের অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের সভায় যোগ না দেওয়ার জন্য বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতীরা শক্তিপদ দাসকে হুমকি দেয়। জানা গিয়েছে, সেদিন তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের মনোনয়ন জমা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল এবং সেখানে যাওয়ার কথাও ছিল তাঁর। সেই প্রেক্ষিতেই এই হামলা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তবে বিজেপির তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ।
ঘটনার পর থেকেই নন্দীগ্রামের (Nandigram) ভেকুটিয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
একের পর এক হিংসা
উল্লেখ্য, এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে এক বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি কলকাতায় তৃণমূল কর্মীকে গুলি করে খুনের ঘটনাও সামনে আসে। ভোটের প্রচারে একের পর এক হিংসার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
গণতন্ত্র এখন আইসিইউ-তে?
বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক বার খুনের ঘটনায় মনে হয় গণতন্ত্র এখন যেন আইসিইউ-তে শুয়ে থাকা এক রোগী। ভোট মানেই যেখানে মত প্রকাশের অধিকার, সেখানে এই ঘটনাগুলি ক্রমশ ভয়ের আবহ তৈরি করছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রশ্নের মুখে পড়ছে। নির্বাচন আর উৎসবের মতো মনে হচ্ছে না, বরং এক ধরনের যুদ্ধের সময় হিসেবে দেখা দিচ্ছে অনেকের কাছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। গণতন্ত্রের মূল শক্তি হল মানুষের নির্ভয়ে মত প্রকাশের অধিকার, কিন্তু যদি সেই অধিকারই ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে আদৌ গনতন্ত্র টিকছে নাকি তার শ্বাস রোধ করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।


